১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ১২:২৬
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

অবৈধ ষ্ট্যান্ডে দুর্ভোগে নগরবাসী, পকেট ভারী নেতাদের

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রাইম নারায়ণগঞ্জ:

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের ২নং রেল গেটের পুরাতন ডায়মন্ড হলের সামনে শতাধিক অবৈধ অটোরিক্সা, ইজিবাইক, মিশুক রেখে গড়ে তোলা হয়েয়ে অবৈধ একটি স্ট্যান্ড। অবৈধ এ স্ট্যান্ডের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে জন ও যান চলাচল, তবুও যেন টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের।

অপরদিকে, এ স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৬ লাখ এবং বছরে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু শ্রমিক নেতা, পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য ও নাসিকের কতিপয় কর্মচারী এমনটাই জানান স্থানীয়রা। তবে পুলিশ প্রশাসন বলছে, পুলিশের কেউ জড়িত নয়। আজই এ অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হবে।

জানা যায়, নগরীর ব্যস্ততম ২নং রেল গেট মোড়ে যানজট ও ভোগান্তির এমন দৃশ্য নিত্যদিনের। এ পরিস্থিতি সৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে কতিপয় শ্রমিক নেতার নামে রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্ট্যান্ড। এ অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডের কারণেই নগরীর কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে পরিচিত এ মোড়ে এসেই সাধারণ মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।
শুধু ডায়মন্ড হলের সামনেই নয়, এ মোড়ের বিপরীতে ফজর আলী ট্রেড সেন্টারের সামনে এভাবে গড়ে ওঠা আরো একটি অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ডকে নগরীতে যানজট সৃষ্টির জন্য দায়ী করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা সড়কে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এ স্ট্যান্ডের সামনে দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু তিনি যখন যাতায়াত করে তখন অবৈধ স্ট্যান্ড বসানো শ্রমিক নেতারা রাস্তা থেকে সকল অটোরিক্সা সরিয়ে রাস্তা পরিস্কার রাখেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর আবারো সেই একই হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয় এখানে জানান স্থানীয়রা। তারা কারো নাম প্রকাশ করবেন না জানিয়ে বলেন, স্থানীয় নেতারা এ স্ট্যান্ড বসিয়ে এখান থেকে লাখ লাখ টাকা নিজেদের পকেটে পুড়ছে, আর চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের।

অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া গেছে, নগরের ভেতরে অবৈধ এ অবৈধ স্ট্যান্ডটি চালায় জনৈক শ্রমিক নেতা। একটি রাজনৈতিক দলের শ্রমিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অবৈধ এ স্ট্যান্ড পরিচালনা করে বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইজিবাইক চালক। তারা আরও বলেন, এ শ্রমিক নেতা একা নয় আরো অনেকে আছেন তার সাথে, সকলে মিলে মিশেই খায় এ টাকা।

কয়েকজন ইজিবাইক চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ সড়কে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০ থেকে ৩০০ টি ইজিবাইক চলে। যার প্রতিটি থেকে দৈনিক ৬০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। এ হিসাবে দৈনিক ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। যার সামান্য অংশ পায় কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, পুলিশের নামে এ টাকা তোলা হলেও পুলিশ আর কত পায়, মূল টাকা যায় ৩/৪ নেতার পকেটে।

অবৈধ এ স্ট্যান্ডের বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজলও। তিনি প্রাইম নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই ওদের এখানে থেকে উচ্ছেদ করে দেই, সরিয়ে দেই। কিন্তু আমি চলে গেলেই ওরা আবার এখানে জড়ো হয়ে যানজটের সৃষ্টি করে। তিনি আরো বলেন, কিছুদিন পূর্বের বাজেট অনুষ্ঠানে মেয়র মহোদয় চাষাড়ার অবৈধ স্ট্যান্ডের বিষয়ে কথা বললেও এ সড়কের অবৈধ অটো স্ট্যান্ডের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেন নি। অথচ তিনি নিজে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হন।

এদিকে নাসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ স্ট্যান্ড ও অবৈধ গাড়ির উপর আমাদের অভিযান অব্যাহত। প্রতিদিনই আমরা বেশ কিছু অবৈধ অটোরিক্সা, ইজিবাইক আটক করছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

একই বিষয়ে ট্রাফিকের সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন প্রাইম নারায়ণগঞ্জকে জানায়, এখনই এ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হবে।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১২:২৬)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.