১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ৪:৪১
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

কবরস্থানে অজুখানা বন্ধ, ভোগান্তিতে মুসল্লীরা

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রাইম নারায়ণগঞ্জ:
প্রায় বছর দুয়েক আগে নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া কবরস্থানের পাশেই নির্মিত হয়েছে আধুনিক অজুখানা, তবে এখনো হয়নি উদ্বোধন বা খুলে দেয়া হয়নি সাধারণ জনগনের সুবিধার্থে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে কবরস্থানে আসা মুসল্লী ও স্থানীয়দের। কর্তৃপক্ষ বলছে, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫টি ওয়ার্ডের মৃত্যুবরণকারীদের মৃতদেহ কবর দেয়ার একমাত্র স্থান হচ্ছে ১৭ নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া কবরস্থানটি। ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ডের উকিল পাড়া, পালপাড়া, ২নং রেল গেইট, ১ নং রেল গেইট, নিতাইগঞ্জ, মন্ডলপাড়া, সৈয়দপুর, শীতলক্ষ্যা, পাইকপাড়া, জিমখানা, দেওভোগ আখড়া, পাক্কা রোড, ১নং বাবুরাইল, ২নং বাবুরাইলসহ প্রায় ২০ এলাকার বাসিন্দাদের মৃতদেহ এ কবরস্থানেই দাফন করা হয়। ফলে প্রায় প্রতিদিনই মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা এ কবরস্থানে এসে স্বজনদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। এছাড়া শুক্রবার দিন জুম্মার নামাজের পর কয়েক হাজার মানুষ এ কবরস্থানটি জিয়ারত করতে আসেন বলে জানা যায়।

আরও জানা যায়, এই পাইকপাড়া কবরস্থানের ভিতরে অনেক পুরোনো একটি অজুখানা ও পাবলিক টয়লেট ছিলো। বেশ পুরোনা হওয়ায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও কষ্ট করে অজু করতে হতো, তবে জরাজীর্ণ হওয়ায় কবরস্থানের টয়লেটটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিলো। ফলে কবরস্থানে আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে এসে অজু করতে গিয়ে বা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তো মুসল্লীরা।

এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানা যায়, প্রায় বছর দুয়েক আগে এসব সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যে কবরস্থানের বাইরে নির্মাণ করা হয় আধুনিক অজুখানা ও পাবলিক টয়লেট। তবে দুই বছর আগে নির্মাণ হলেও উদ্বোধন না করায় বা খুলে না দেয়ায় জনগন এ অজুখানা ও টয়লেটের সুবিধা ভোগ করতে পারে নি এখনো। উপরন্তু কবরস্থানের ভিতরে পুরোনো যে অজুখানা ও ব্যবহারের অনুপযোগী টয়লেট ছিলো তাও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সংস্কার কাজের জন্য। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী পাইকপাড়া কবরস্থানের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে অজুখানা ও টয়লেট। টাইলস দিয়ে নির্মাণ করা আধুনিক এ অজুখানাটিতে ৮ জন একসাথে অজু করতে পারবেন এবং দুটি টয়লেটও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু উদ্বোধন না করায় অজুখানা ও টয়লেট ব্যবহার করতে পারছে না মুসল্লী ও স্থানীয়রা। তাছাড়া দীর্ঘ সময় বন্ধ করার কারণে পানির কল ও টয়লেটগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর আগে এটি নির্মাণ করা হলেও এখনো খুলে দেয়া হয় নি। ফলে পানির কল ও টয়লেটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কবর জিয়ারত করতে আসা মুসল্লীরাও অজু করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু বলেন, এ অজুখানা ও টয়লেটটি উদ্বোধনের পূর্বেই একটি দুষ্টচক্র এর ভেতরের পানির কল ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই এটির রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ও যন্ত্রপাতি যাতে চুরি না হয় এজন্য খুলে দেয়া যাচ্ছে না। তারপরও মুসল্লীদের স্বার্থে শীঘ্রই এটি খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
একই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্যানেল মেয়র-১ বিভা হাসান বলেন, আমি জানতাম না। এখনি জানলাম, দেখে তারপর ব্যবস্থা নিবো।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ৪:৪১)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.