১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৬:৪৮
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

করোনা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বৃষ্টি-জলাবদ্ধতা

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় করোনা ভাইরাস ক্ষতিকর মাত্রায় ছড়ানোর ঝুঁকি আছে কি না তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না কেউ। তবে সুরক্ষা বর্জ্য থেকে বেশি মাত্রায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশেও এই ভাইরাস কিছু ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব মানা সম্ভব হবে না সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি বলে মনে করেন তারা।

আরেক বিপদ হলো বর্ষাজনিত সাধারণ জ্বর সর্দি কাশি ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা থেকে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে করোনা আক্রান্তদের আরো বেশি দুর্বল করে ফেলতে পারে।

চিকিৎসক, রোগতত্ত্ব ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা এমন মতামত দিয়ে সবাইকে আরো সতর্ক ও সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো উপসর্গধারীরা করোনা নাকি মৌসুমি রোগে আক্রান্ত তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষা করতে হবে বেশী বেশী। কারণ সঠিক চিকিৎসা করার জন্য এটা দরকার।

চিকিৎসকদের মতে, বন্যা ও বর্ষায় সাধারণত জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার মতো রোগ হয়। এসব রোগে যে উপসর্গ থাকে সেগুলোর সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই উদ্বিগ্ন হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক টিপস হিসেবে সবাই খেয়াল করতে পারেন ঘ্রাণশক্তি ও শারীরিক দুর্বলতার বিষয়টি। অন্য উপসর্গের সঙ্গে যদি ঘ্রাণশক্তি লোপ পায় এবং প্রচন্ড দুর্বলতা দেখা দেয় তবে করোনা পরীক্ষার দরকার হবে। বর্ষায় ঘরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকে। এ সময় যতটা সম্ভব আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, পরিবেশ শুকনো রাখা, বৃষ্টির পানি এড়িয়ে চলা ভালো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার পানির সঙ্গে যে কাদামাটির মিশ্রণ থাকে তাতে করোনাভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। কিন্তুবৃষ্টির জমা পানিতে নালা-নর্দমায় ফেলে দেওয়া মাস্ক-গ্লাভস সহ অন্য সুরক্ষাসামগ্রীর বর্জ্য থেকে করোনা ছড়াতে পারে। তাদের মতে, পানির তাপমাত্রা যদি ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে হয় তবে ওই পানিতে করোনাভাইরাস ১০০ দিনের বেশি টিকতে পারে। ১৭ ডিগ্রির পানিতে ছয় দিন, ৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের পানিতে ২২ দিন থাকতে পারে। তবে মাটিতে বা নালা-নর্দমায় যেহেতু বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দূষণযুক্ত পানি থাকে, সেখানে ভাইরাসটির বাঁচার সম্ভাবনা থাকে না।

এছাড়াও ডায়রিয়া যেহেতু করোনায় আক্রান্তদের এখন সাধারণ উপসর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে আক্রান্তদের মলের মাধ্যমে তা পানিতে ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য ও জেলা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা: শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, বর্ষার পানি বিশুদ্ধ তাই এ পানির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে না পারলেও বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মানুষের মধ্যে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে। কারণ এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা খুব কঠিন ব্যাপার।

এ ছাড়া এসময়ে অসহায়দের ত্রাণ বিতরণেও ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছরই বর্ষার সময় সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও হয়তো তাই থাকবে। এবার যেহেতু করোনা সংক্রমণ রয়েছে এবং এর উপসর্গের সঙ্গে যেহেতু মিলে যায় তাই কারো মধ্যে এমন উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ, রোগ নিশ্চিত না হলে চিকিৎসাও শুরু করা যাবে না।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (সন্ধ্যা ৬:৪৮)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.