১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৭:১২
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

নাসিকের নতুন ভবনের ৬৬ শতাংশ কাজ শেষ

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

আধুনিকতা আর নান্দনিকতার মিশেলে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জের অত্যাধুনিক নগরভবন। ৫২ কোটি ব্যয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট পরিবেশ বান্ধব ও উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন অত্যাধুনিক এই নগর ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পে ২টি পর্যায়ে ৩১ কোটি টাকার কাজের দরপত্র আহবান করা হয় এবং এ দরপত্রের কাজ শেষ করা হয়েছে। একইসাথে ৩য় পর্যায়ের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এ টাকায় ১০ তলা ভবনের আপাতত ৫ তলা নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। ৫ তলার প্রায় ৬৫-৭০% কাজ শেষ বলেও জানা যায়।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে বারো কোটি চার লক্ষ ছত্রিশ হাজার ছয়শ’ত টাকা দরপত্র আহবান করা হয়। কাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মতিন লিঃ ও মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজ। পরবর্তীতে ১৯ কোটি একত্রিশ লক্ষ বিশ হাজার পাঁচশত চুয়াল্লিশ টাকার দরপত্র আহবানের মধ্য দিয়ে মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজই ভবনটির কাজের দায়িত্ব পায়। ৩য় পর্যায়েও দরপত্র আহবান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫ তলার প্রায় ৬৫-৭০% কাজ শেষ বলেও জানায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। এদিকে ৫ তলার কাজ শেষ হলেই উদ্বোধনের চিন্তা করবে কর্তৃপক্ষ এমনটিই মনে করেন নগর ভবনের কয়েকজন কর্মকর্তা। সেই হিসাবে এবছরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে উদ্বোধন হতে পারে আধুনিক এই নগর ভবনের এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে নতুন নগর ভবন নির্মানের কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন নগর ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার নামকরা স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড ভবনটির নকশা প্রণয়ন করে দেয়। ২০১১ সালেই মেয়র নির্বাচনে মধ্য দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের যাত্রা শুরু। পর্যায়ক্রমে বিদ্যমান ১৩টি ওয়ার্ড থেকে ২৭টি ওয়ার্ডে সম্প্রসারিত হয় নগর এলাকা। কিন্তু পৌরসভার উপযোগী ভবনেই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনকে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই (২০১৫ সালে) সিটি কর্পোরেশনের আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র আরো জানিয়েছে, পৌরসভা থাকাকালীণ যে ভবনটিতে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের কাজ চলছে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝড়-তুফান হলে নগরভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনেকটা আতংকে থাকেন। যে কারণে একটি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি নগর ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিশেষ ভাবে পাইলিং করে অনেকটা ভূমিকম্প সহনশীল হবে ভবনটি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো: ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রাইম নারায়ণগঞ্জকে জানান, ইতিমধ্যেই আধুনিক নগর ভবনের ২য় পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। ৩য় পর্যায়ের কাজের দরপত্র আহবান হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে নির্মানাধীন নগর ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ, চলছে ৩য় পর্যায়ের দরপত্র আহবান। শীঘ্রই শুরু হবে ৩য় পর্যায়ের কাজ। ভবনে পাঁচ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। জানা গেছে, বহুতলবিশিষ্ট এই নগরভবনের নীচতলায় থাকবে গাড়ী পার্কি ও অডিটোরিয়াম, ২য় তলায় ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস ও হেলথ কেয়ার, ৩য় তলায় ট্যাক্স, লাইসেন্স ও এ্যাসেসমেন্ট, ৪র্থ তলায় এ্যাষ্টেট ও নগর মিউজিয়াম, ৫ম তলায় মেয়র এর অফিস কক্ষ, ৬ষ্ঠ তলায় প্রকৌশল বিভাগ, ৭ম-৮ম তলায় প্রশাসন বিভাগ, ৯ম তলায় মাল্টিপারপাস ও ১০ম তলায় থাকবে ভিআইপি গেষ্ট হাউজ। এছাড়াও ভবনটিতে অত্যাধুনিক লিফট, দুটি সিড়ি, পানি রিজার্ভার থাকবে বলে জানা যায়। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার পাশাপাশি দুটি জরুরি অগ্নিনির্গমন পথ রাখা হবে। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন হবে ১৪ হাজার ৭২০ বর্গফুট। ভূমিকম্প ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ভবন নির্মাণে যথাযথ প্রযুক্তিগত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

একসময় প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে পরিচিত হতো যে নগরী সেই শহরটাকে দেশবাসীর কাছে আরো বেশী দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার কাজ করছেন উন্নয়নের রূপকার নাসিক মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাই নগর ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে নগরবাসীর প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও দারিদ্রমুক্ত পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জ, এগিয়ে যাবেন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী এমনটাই মনে করেন নগরবাসী।

তারা মনে করেন, অন্ধকারাছন্ন নারায়ণগঞ্জকে আলোকিত করে তোলার লক্ষ্যে মেয়র আইভীর প্রচেষ্টায় ও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চলছে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। নাসিক মেয়র ডা: আইভী নারায়ণগঞ্জকে যেভাবে একটি স্বপ্নের শহর হিসাবে গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা যদি বাস্তবায়ণ সম্ভব হয় তবে মালয়েশিয়ার আদলে নারায়ণগঞ্জ হবে একটি আধুনিক শহর! ঝকঝকে তকতকে পুরো ওই শহরটিই হবে পরিবেশ বান্ধব। অর্থাৎ গ্রীন সিটি হিসেবে পরিচিতি পাবে এই নারায়ণগঞ্জ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, প্রয়োজনীয় রাস্তা সহ থাকবে নাগরিক সুবিধার সব কিছুই। নজরকাড়া স্থাপত্যশৈলীর মনোরম দৃশ্য সংযোজিত এই শহর হবে সর্বাধুনিক।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (সন্ধ্যা ৭:১২)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.