১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ভোর ৫:০১
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

সড়ক দখলের মহোৎসব চলছে ভবন মালিকদের

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রাইম নারায়ণগঞ্জঃ

দেশের অর্থনীতিতে অন্যতম গুরুত্ববহনকারী ও শিল্পনগরী খ্যাত নারায়ণগঞ্জ এখন দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে পাড়া-মহল্লার অলি গলির সড়কগুলো এখন নির্মাণ সামগ্রী রাখার স্থান হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে যানজট, দুর্ঘটনাসহ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এতো কিছুর পরও নিরব ভুমিকায় নাসিক এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়কের ওপর কোথাও কোথাও আবার পুরো সড়ক দখল করেই চলছে বহুতল বিভিন্ন ভবনের নির্মাণ কাজ। কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র ইট-পাথর-বালু ফেলে রাখছেন এসব ভবনের মালিকরা।

আইন অনুযায়ী সড়কে ইট, বালু, সিমেন্ট ও পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা বে-আইনি। কিন্তু তারপরও এ বিধান কেউ মানছেন না। আবার অনেক ইট-বালু-রড ব্যবসায়ীও রাস্তার ওপর তাদের মালপত্র রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন যাবৎ নির্মাণ সামগ্রী রেখে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে করে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। শুধু তাই নয়, মাঝে মধ্যে এ কারণে ফাঁকা রাস্তায় প্রায়ই যানযট লেগে থাকে। এরপরও নির্মাণাধীন এসব ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। আগে কম থাকলেও বর্তমান সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী বেশি রাখা হচ্ছে। ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদেরি বাড়ির পেছনে আফসার ভবনের বিপরীত পার্শ্বে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটির নির্মাণ সামগ্রী তথা ইট, বালু, কংক্রিট ইত্যাদি সড়কের উপর মজুদ করে রাখা হয়েছে। সড়কের প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল করে এসব নির্মাণ সামগ্রী রাখায় এ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ওইসব নির্মাণ সামগ্রীর কারণে রিক্সা-অটোরিক্সাসহ যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

১৫ নং ওয়ার্ডের ২ নং রেল গেট এলাকায় নির্মিত হচ্ছে আলমাছ আলীর মালিকানাধীন একটি বহুতল ভবন। এ ভবনটি নগরীর প্রধান সড়কের পাশে হলেও দীর্ঘ প্রায় মাস খানেক যাবৎ সড়কটিতে নির্মাণ সামগ্রী রেখে নির্মাণ কাজ চলছে, ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরীর জনসাধারণ। নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের ২ নং বাবুরাইলে সড়কের পাশের নিমার্ণাধীন ভবনের চিত্রও একই। কোথাও ড্রেনের ওপর ইট বালু রাখায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। একই ওয়ার্ডের শেখ রাসেল পার্কের সামনের সড়কেও একই অবস্থা। নগরীর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষকেই কমবেশী এ দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।

নগরবাসীরা বলছেন, সড়কের উপর রাখা এসব নির্মাণ সামগ্রী আমাদের জনজীবনে এক দূর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে বিভিন্ন সড়ক দখল করে রাখায় প্রতিদিন যানজটের মধ্যে পড়ে নষ্ট হয় আমাদের কর্মঘন্টা।

পথচারী মিরাজ হোসেন বলেন, অনেকদিন ধরেই নগরীর বিভিন্ন সড়কের উপর পাথর, বালু, ইট ও কংক্রিট রেখে ভবন নির্মাণ কাজ চলে। এতে আমাদের মতো সাধারণ পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়ে গেলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। সড়কের উপর নির্মাণ সামগ্রী রেখে ভবন নির্মাণ করার এমন নজির পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না।

দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে রিকশাচালক রহিম মিয়া বলেন, কি বলবো, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের কথা তো কেউ শুনবে না। তাই এসব দেখার পরও চুপ থাকতে হয়। কিছু বলতে পারি না। আর বলবই বা কাকে?

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মাইনুল ইসলাম বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।

কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে আমাদের নগরীতে ঘনবসতি হওয়ায় এবং খুব একটা জায়গা না থাকায় সাময়িকভাবে সাইড করে নির্মাণ সামগ্রী রেখে মানুষ ভবন নির্মাণ করছে। এটা খুব একটা বড় অপরাধের মধ্যে পড়ে বলে আমার মনে হয় না। এটা নিয়ে আমাদের খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বেশী সমস্যা হচ্ছে অটোরিক্সাগুলোর কারণে। দীর্ঘসময় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে আটকে থাকতে হয়। কারা এ অটোরিক্সাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে, কারা এখান থেকে টাকা খাচ্ছে এসব বিষয়ে লিখলে মানুষ বেশী উপকৃত হবে।

এদিকে কাউন্সিলর খোরশেদ গাড়ী চালিয়ে ঢাকা থেকে আসছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
অপরদিকে কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাসকে কয়েকবার ফোন করা হলেও প্রতিবারের ন্যায় এবারও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (ভোর ৫:০১)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.