১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৯:০৫
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে সাখাওয়াত-আইভী

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

একজন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, আরেকজন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি। বিপরীতমুখী দুই দলের আদর্শে রাজনীতি করলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তাদের মিল আছে অনেক। নিজ নিজ দলেই তাদের দুজনের আছে শক্ত প্রতিপক্ষ, তারপরও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে এ দুজন এমনটাই দাবী সাখাওয়াত-আইভী অনুসারীদের।

আওয়ামীলীগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হন শামীম ওসমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করেন আইভী। নির্বাচনে আইভীর কাছে প্রায় ১ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে পরাজীত হন শামীম ওসমান। এরপর থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দক্ষিণ ও উত্তর মেরুর দ্বন্দ নতুন করে আবার প্রকাশ্যে আসায় নিজ দলেই প্রতিপক্ষ হয়ে পড়েন আইভী। তখন থেকেই নিজ দলের শক্ত এক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে নিজের অবস্থান দৃঢ় করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন আইভী এমনটাই দাবী আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদের দাবীদার ছিলো মেয়র আইভী। কিন্তু প্রভাবশালী এক এমপি ও অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপে মহানগরের কমিটিতে সদস্য পদেও রাখা হয় নি আইভীকে। মহানগর কমিটিতে রাখা না হলেও আইভীকে কেন্দ্র ঠিকই মূল্যায়িত করেছে। ২০১৬ সালের ০৯ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে সভাপতি হিসাবে আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ভিপি বাদল ও সহ-সভাপতি করা হয় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। পরে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিএনপি সুত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে অক্টোবরে প্রয়াত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সেক্রেটারী করে নগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। যোগ্য হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ পদের দাবীদার থাকা সত্ত্বেও ঐ কমিটিতে রাখা হয় নি এড. সাখাওয়াত সহ বেশ কিছু ত্যাগী নেতাকর্মীকে এমন অভিযোগ ছিলো নেতাকর্মীদের। এ কমিটির বিরোধীতা করে নগর বিএনপির বেশীরভাগ নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। পরবর্তীতে সেভেন মার্ডারের ঘাতকদের বিপক্ষে মামলা পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জসহ পুরো দেশে হৈ চৈ ফেলে দেন তিনি।

যার ফলশ্রুতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির প্রার্থী পদে মনোনয়ন পেয়ে প্রায় এক লক্ষ ভোটও পান সাখাওয়াত। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাকে। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী এড. আবুল কালামকে সভাপতি, এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে সহ-সভাপতি করে মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর থেকে নেতাকর্মীদের অনেকেই নিজ গৃহ থেকে বের না হলেও দলীয় সকল আন্দোলন-সংগ্রাম, কর্মসূচীতে সরব উপস্থিতি ছিলো এড. সাখাওয়াতের। সর্বদা এসকল কর্মসূচীতে সাখাওয়াতের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে থাকে। আর তাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে এড. সাখাওয়াত হয়ে উঠেছেন অপ্রতিরোধ্য।

এদিকে, সাখাওয়াত-আইভী দুজনে আবার ২০১৬ সালের নির্বাচনে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দিও ছিলেন। সেই নির্বাচনে প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজীত হন সাখাওয়াত। তবে নবাগত প্রার্থী হিসাবে প্রায় ১ লক্ষ ভোট পেয়েছেন সাখাওয়াত, যা তার জন্য বড় এক পজিটিভ দিক বলে মনে করেন রাজণৈতিক বিশ্লেষক মহল। তাদের মতে, পরবর্তী নির্বাচনে তথা ২০২১ সালের সিটি নির্বাচনে সাখাওয়াত-আইভী দুজনই দুই দলের যোগ্য দুই মনোনয়ন প্রার্থী হবে। যদি দুই জন দুই দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে যান তাহলে দুজনের মাঝে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি এমনটাই দাবী বিশ্লেষক এ মহলের।

তবে, প্রবীণ রাজনীতিবীদদের মতে, সাখাওয়াত ও আইভী দুজন দুদলের রাজনীতিবীদ হলেও তাদের ভাগ্য অনেকটা এক। কেননা তাদের উভয়কেই নিজ নিজ দলের পরাশক্তি-মহাশক্তির সাথে লড়াই করতে হচ্ছে। তারপরও এতো সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দুজনেই এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে, ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে সাখাওয়াত-আইভী এমনটাই দাবী বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবীদদের।

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ৯:০৫)
  • ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.