১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ৪:৩৫
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

মদের বারে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কর্মশালা

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রাইম নারায়ণগঞ্জ

বহুল বিতর্কিত সেই মদের বার তথা ব্লু পিয়ার রেষ্টুরেন্টে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এমনটাই দাবী সচেতন মহলের। তাদের মতে, যে মদের বার নিয়ে এক সময় উত্তপ্ত ছিলো নারায়ণগঞ্জ নগরী, সেই বার কাম রেষ্টুরেন্টে সরকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কিভাবে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এদিকে, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা যে এক সময় বার ছিলো এবং তা নিয়ে যে নগরীতে এতো কিছু হয়েছে তা আমাদের জানা ছিলো না।

মঙ্গলবার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের চাষাড়া বালুর মাঠ প্যারাডাইস ক্যাসল ভবনের ব্লু পিয়ার হোটেল কাম বারের মিলানায়তনের এ আয়োজন করা হয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ মহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) শিবনাথ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প পুলিশ নারায়ণগঞ্জ-৪ এর পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন ও বিকেএমইএ এর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শাহজাহান মাতব্বর, শ্রম পরিদর্শক নেসার উদ্দিন আহম্মেদসহ আরও অনেকে।

বহুল বিতর্কিত ও মদের বার খ্যাত এমন একটি রেষ্টুরেন্টে কর্মশালার আয়োজন করার বিষয়ে জানতে চাইলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ শাখার উপ-মহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া প্রথমে বলেন, এটি যে এক সময় মদের বার ছিলো এবং এ মদের বার নিয়ে এতো ঝামেলা হয়েছে তা আমার জানা নেই। পরক্ষণেই অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করি নি, করেছে গেইন নামক একটি এনজিও। পরক্ষণেই তিনি মোবাইল ফোনটি দিয়ে দেন নেসার উদ্দিন আহমেদ নামে এক শ্রম পরিদর্শককে।

এ শ্রম পরিদর্শক বলেন, ভাই আমরা জানতাম না যে, এটি মদের বার ছিলো। আর এটি নিয়ে এতো ঝামেলা ছিলো তাও আমার জানা নেই। কতদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জে চাকরী করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাড়ে তিন বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জে কাজ করছি। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
এদিকে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ শাখার এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ বার যাতে স্থাপন না হতে পারে সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন বলেন, এমন একটি অপুষ্টিক জায়গায় গিয়ে তারা পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে। যদি তারা মদের বারটির মধ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু যদি তারা রেষ্টুরেন্টে করে থাকে তাহলে করতে পারে। তারপরও এ রেষ্টুরেন্টটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর একটি বিরূপ ধারণা আছে, তাই এমন একটি রেষ্টুরেন্টে সরকারী প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান করা সমুচীন হয়নি।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতি নিন্দা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বর্ষিয়ান আইনজীবি এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, প্রথমত ব্লু পিয়ার রেষ্টুরেন্টের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নাই। একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স বিহীন হোটেলে কোনো প্রোগ্রাম করতে পারে না। আর এটা নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বিতর্কিত একটা রেষ্টুরেন্ট। এখানে গোপনে গোপনে তথা কাগজের মোড়কে প্রকাশ্য করে এখনো মদ বিক্রি করা হয়, এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি নিন্দা জানাই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা যারা আছে তাদের। এ ধরনের একটা হোটেল যারা ট্রেড লাইসেন্স নাই বা অনুমোদন নাই সেখানে তারা কিভাবে প্রোগ্রাম করে? ব্লু পিয়ার রেষ্টুরেন্ট বা বার নারায়ণগঞ্জবাসী কোনোদিনই গ্রহন করবে না। এছাড়া এ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জে যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন তিনি খুবই দায়িত্বহীণতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও মনে করেন তিনি।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ৪:৩৫)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.