১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ১০:৪০
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

সত্যের জয় শেষে হয় : পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেছেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনীতিতে জড়িত আছি, আমাদের নিয়েই বেশী লেখালিখি হয়। আমাদের সাথে যদি কারো একটু ধাক্কা লাগে, কথায় কাটাকাটি হয় সেটাই নিউজ হয়ে যায়। আপনাদের লেখনি কারণের আমরা অনেক সময় হেয় প্রতিপন্ন হই, তারপরও আমরা ধৈর্য্য ধরি। কারণ সত্যের জয় সবশেষে হয়। 

সোমবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ৬ষ্ঠ তলা ও লিফটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ নিয়ে অনেক কথা বলি, নারায়ণগঞ্জের অনেক সমস্যা আছে। নারায়ণগঞ্জের অনেক সম্মানহানী হয়েছে, আবার সম্মান অর্জনও করেছি। বাবু ভাই ও আইভী আপা যে লাইনে কথা বলে গেছেন, তা অনেক দু:খ নিয়েই বলেছেন। সবকিছু মিলিয়েই আমরা। কারণ সাংবাদিকতায় ভালো সাংবাদিকতাও আছে, আবার ইয়েলো সাংবাদিকতাও আছে। যেহেতু আমরা প্রেসক্লাবে বসে আছি, তাই প্রেসক্লাবে ভালো সাংবাদিকও আছে, আবার মন্দ সাংবাদিকও আছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনীতিতে জড়িত আছি, আমাদের নিয়েই বেশী লেখা হয়। আমাদের সাথে যদি কারো একটু ধাক্কা লাগে সেটাই নিউজ হয়ে যায়। কিন্তু অনেকে ধাক্কা-ধাক্কি করে কেটে ফেলে, আহত হয়ে যায় কিন্তু তাদের নিয়ে লেখা হয় না। কিছু হলেই আমরা পেপারে চলে আসে। কারো সাথে একটু কথা কাটাকাটি হলে পেপারে চলে আসে।

মন্ত্রী আরও বলেন, যাই হোক সাংবাদিকরা লিখে এগুলো হয়তো আলোকিত হয় বা পত্রিকার কাটতি ভালো হয়, যাই হোক যারা সাংবাদিকতা করে তারা তাদের ব্যাপারটা ভালো বুঝে। আমরা যারা রাজনীতি করি, আমরা ধৈর্র্য্য ধরি, আপনারা অনেক লিখনি লিখেন, আমরা অনেক সময় হেয় প্রতিপন্ন হই, আমাদের পরিবারের কাছে, আমাদের জনগনের কাছে, তারপরও আমরা এগুলি নিয়ে বাড়াবাড়ি করি না, আমরা ধৈর্য্য ধরি। কারণ সত্যের জয় সবশেষে হয়। আমরা সত্য পথে থাকলে আমাদের জয় হবেই। সুতরাং কে সত্য বললো, কে মিথ্যা বললো সেটাকে নিয়ে আমরা না ভেবে, আমরা আমাদের পথে এগিয়ে যাবো সেটাই আমাদের কাম্য।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে। আমরা ৭১এ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। তারপর ৭৫ এর পরে সেই দুর্ঘটনার পর ২১টি বছর আমরা বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে পারি নাই। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ ছিলাম, আমাদের তো কথাই নাই, মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে পরিচয় দিতে পারি নাই। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে পরিচয় দিলেই পরে আমাদের জেল-জুলুম জরিমানা আমাদের উপরে আসতো। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়েরা তখন ভালো লেখা পড়া করতে পারে নি। তারা মামলা-হামলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। কিন্তু সেই ফাকে অনেক সুবিধাবাদী লোকেরা অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন। বিএনপির সুযোগ সুবিধা নিয়ে অনেকে তখন বড় বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন। কিন্তু আমরা যারা দেশ স্বাধীন করেছিলাম, তাদের মধ্যে ৯৯ পারসেন্ট লোকেরাই বড় হতে পারি নাই। যারা স্বাধীণতার বিরোধীতা করেছিলো, তারাই বেশীর ভাগ বড় হয়ে গেছে। কিন্তু যেমনটা বললাম সত্যের জয় শেষে হয়।

তিনি আরও বলেন, ২১ টি বছর পর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জনগন আবার নির্বাচিত করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। তারপর আমরা একটি মনোবল ফিরে পেয়েছি, সেই থেকে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সম্মান আবার ফিরে পেয়েছেন। তারপর ২০০৮ সালে আবার ক্ষমতায় এসে আমরা আবার মুক্তিযোদ্ধাদের সেই পরিচয় আবার জাগ্রত করেছি। তারপর আমরা যারা স্বাধীনতা প্রেমিক ছিলাম, স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম, তারা আমরা আস্তে আস্তে আবার উন্নতির শিখরে চলে যাচ্ছি। কারণ আমরা বলেছি, আমরা দেশকে ভালোবাসি, দেশের স্বাধীনতার ছিনিয়ে এনেছি। তাই আমরা স্বাধীণতার পক্ষে সকল শক্তি এক হয়ে স্বাধীণতার পক্ষে লড়ে যাচ্ছি।

আমরা দেশকে ভালোবাসি বলেই আজকে দেশটা কোথায় চলে গেছে। কি দেশ ছিলো, ২১টি বছর আমরা কোথায় ছিলাম, অনেকের টাকা পয়সা হয়েছে, কিন্তু দেশের কিন্তু স্বনামধন্য কেউ ছিলো না, দেশটাকে কিন্তু কেউ চিনতো না। আজকে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে হাইয়েস্ট (সর্বোচ্চ) গ্রোথ হচ্ছে আমাদের। এটি করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশকে ভালোবাসেন বলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আর যারা দেশকে ভালোবাসে না তারা শুধু অর্থনীতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলো, কিভাবে অর্থ কামাবে সেই চিন্তায় ব্যস্ত ছিলো। দেশের চিন্তা করে নাই। সুতরাং আজকে আমরা চাই, এ দেশটাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়ে বাস্তবায়ন করবো। আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসবো, আপনারা যারা সাংবাদিকরা আছেন, তারা সঠিক সাংবাদিকতা দিয়ে আমাদের বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রীর যে বাস্তবায়ন করছেন সেগুলোর পরিপূর্ণ ইতিহাস আপনারা তুলে ধরবেন। এবং আমরা যারা তার পক্ষে কাজ করছি, যারা জনপ্রতিনিধি আছি আমাদের সত্য কথাগুলো তুলে ধরলে জনগন প্রভাবিত হবে, দেশকে ভালোবাসবে এবং দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। 

মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের অহংকার, নারী নেতৃত্বের নিদর্শন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। উনাকে দেখে অনেক মহিলা জাগ্রত হন, অনুপ্রাণিত হন। আমার স্ত্রীও উনাকে দেখে উৎসাহিত হয়েছেন এবং উনাকে দেখেই রাজনীতিতে এসে মেয়র হয়ে গেছেন। এমন আরো অনেক নারীই উনাদের দেখে রাজনীতিতে এসেছেন এবং নারী নেতৃত্বে সফলতা অর্জন করেছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাদাকে সাদা বলেন, কালোকে কালো। আপনারা কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ না করতে পারেন। তাই বলে কোন ব্যক্তিতে বির্তকিত করবেন না। আপনারা যে কলমটি ধরেছেন তা দিয়ে যেন কোন নারী ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে বিষয়ে নজর রাখবেন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, , নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের কাছে আমার কিছু আবেদন থাকবে। আবেদনটি যদি গ্রহণ করতে পারেন আমি মনে করি আবেদনটা যদি আপনেরা মনে রাখতে পারেন তাহলে আপনাদের দ্বারা কেউ ক্ষতি বা আক্রান্ত হবে না করোনা ভাইরাসে। নারায়ণগঞ্জের সন্তান হিসেবে এটা আমার কাছে নিজেরও অপরাধ মনে হয়। শুধু শুধু কারণে অকারণে এতো বড় বড় সাংবাদিক থাকতে যার যা ইচ্ছে পত্রিকায় লিখে। আমার বিরুদ্ধে লিখে। দুই একজন সাংবাদিকরা মিথ্যাচার করে, বেনিফিসারি হতে চায়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, সত্য-সুন্দর সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু সাংবাদিক, কিছু কিছু পত্রিকার ভুমিকার কারণেই আজকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ, জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, শত সংগ্রাম আন্দোলনের সাথে জড়িত এই নারায়ণগঞ্জ। আজকে অনেকে প্রশ্ন করে এই নারায়ণগঞ্জ কিভাবে ঘুড়ে দাঁড়ালো। বঙ্গবন্ধু বার বার এখানে এসেছেন। আর এখানে বার বার এমনি এমনি তিনি আসেন নাই, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সারা বাংলাদেশের আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে হলে নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আগাতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অন্য যেকোন জেলার চেয়ে বেশি সহায়তা করে থাকেন। এবং সাংবাদিকদের সাথেও তারা সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। বাংলাদেশের খুব কম জেলাতেই এত সুউচ্চ ভবন আছে।

সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, একজন মানুষ হঠাৎ দেখলাম পানের দোকানে বসে আছে, কিছুক্ষণ পরে দেখি সম্পাদক হয়ে গেলো প্রত্রিকার। যারা সাংবাদিকতার নীতিমালায় বিশ্বাস করে তারা এ কাজ করতে পারে না।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুমের সভাপতিত্বে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক নিজামউদ্দিন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, মডেল গ্রুপের এমডি মাসুদুজ্জামান মাসুদ প্রমূখ।

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ১০:৪০)
  • ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.