১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, বিকাল ৩:৫০
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে কমে নি দ্বন্দ ॥ হতাশ কর্মী-সমর্থকরা

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

রাজনৈতিক প্রতিবেদকঃ

কেন্দ্র থেকে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি বহাল রাখলেও বিরোধ কমে নি উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে। আহবায়ক কমিটি ও বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যবর্তী দুরত্ব না কমায় এবং পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীর কারণে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়েছে স্থানীয় রাজনীতি।

দুটি পক্ষই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখায় তৃনমুল নেতাকর্মীদের মাঝে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে, বাড়ছে অসন্তোষ। প্রবীণ এক রাজনীতিবীদ বলেন, কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটি কমিটি বহাল রাখার পরও এর বিরোধীতা করছে একটি পক্ষ। আর এ পক্ষটির শক্ত অবস্থানের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে তর্ক-বিতর্ক।

নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই দুই ধারায় রাজনীতি হচ্ছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে। কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে ব্যস্ত নেতারা। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে অবৈধ ঘোষনা করে প্রতিহতের ঘোষনা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী সমর্থকরা পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে যারা একান্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতি করেন। যারা কোন গ্রুপিংয়ে নেই তারাও, বিভ্রান্ত হচ্ছেন! তাই শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান না হলে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

 স্থানীয় এক নেতা বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী এবং স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এমন নেতাকর্মীদের স্থান দিলে এ বিরোধ কিছুটা কমে আসতে পারে। তাছাড়া ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের কমিটি স্থান দেয়া চলবে না। এদের স্থান দিলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মেনে নেবেন না বলেও মনে করেন তারা। বিদ্রোহী পক্ষের এক নেতা বলেন, বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটিতে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে যারা আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করেছে তাদেরকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি অবৈধ। আমরা এ কমিটি মানিনা। দ্রুত এ আহবায়ক কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানান এ নেতা।

আহবায়ক কমিটির সমর্থক এক নেতা বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এ কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলো। তারপর কেন্দ্র থেকেও এ কমিটি বহাল রাখা হয়েছে। তারপরও অতীতে যারা আওয়ামীলীগের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে নি তারা এ কমিটির বিরোধীতা করে গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, জানা যায়, দীর্ঘ ২৩ বছর পর গত বছরের ১৫ জুলাই সামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে আট সদস্য বিশিষ্ট সোনারাগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

সেই সাথে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তথা কায়সার হাসনাত, মোশারফ হোসেন, মাহফুজুর রহমান কালাম ও এএইচএম মাসুদ দুলাল নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে ঐক্য গড়ে তোলেন। ফলে কোনঠাসা হয়ে পড়েন আহবায়ক কমিটির সদস্যরা। ঐক্য করার পর আহবায়ক কমিটির কর্মী সম্মেলন প্রতিহত করে আহবায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের মারধর ও সম্মেলনে আসা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে লাঞ্চিত করে। এরপর কেন্দ্রে বিচার যায় এ কমিটির বিষয়ে।

প্রথমে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখলেও এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারী এ কমিটি বহাল রাখে কেন্দ্র। তারপরও এ দুই পক্ষের মাঝে ঐক্য না হওয়ায় সোনারগায়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৯৯৭ সালে।

ওই সম্মেলনে আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও আবদুল হাই ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৪ সালে আবুল হাসনাত এবং ২০১৪ সালে আবদুল হাই ভূঁইয়া মারা যান। এ দুজন ছাড়া ৫১ সদস্যের কমিটির ২০ জন বিভিন্ন সময়ে মারা যান। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যথাক্রমে দায়িত্ব পালন করছিলেন সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মাহফুজুর রহমান কালাম।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (বিকাল ৩:৫০)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.