১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ১২:৫৫
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

আ.লীগে দুই ॥ বিএনপিতে অসংখ্য

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে নিকটবর্তী জেলা হওয়ায় রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব অপরিসীম। আওয়ামীলীগ-বিএনপি উভয় দলের হাইকমান্ডই এ জেলার নেতাদের দেখেন আলাদা চোখে এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তাদের মতে, রাজনীতির সুতিকাগার হিসাবে পরিচিত এ নারায়ণগঞ্জে একসময় ঐক্যের রাজনীতি চললেও বর্তমানে চলছে বিভক্তি ও কোন্দলের রাজনীতি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ প্রধানত দুই ভাগে এবং বিএনপি অসংখ্য ভাগে বিভক্ত বলেও মনে করেন তারা।

আওয়ামীলীগ সুত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী দুই পরিবারের উত্তরসূরীরাই বারবার নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরেই চলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। পাশাপাশি তাঁদের নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীরা দখল করে আছে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী। ক্ষমতাসীন দলটি পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় এবং এমপি ও মেয়রের মধ্যে বিরোধ ঘিরে সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে।

বিএনপি সুত্রে জানা যায়, অন্তঃকোন্দল আর অসংখ্য ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। বিশেষত জেলার সর্বশেষ কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় নতুন কমিটির নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব-বিভেদ ও হতাশা বিরাজ করছে। এছাড়া মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর থেকেই নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

আ.লীগের প্রবীণ রাজনীতিবীদদের মতে, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতিতে ওসমান পরিবার ও চুনকা পরিবারের দ্বন্দ বেশ পুরোনো। ১৯৭২ সালে শহর আওয়ামীলীগের কাউন্সিল নিয়ে শামীম ওসমানের বাবা একেএম শামসুজ্জোহা ও আইভীর বাবা চুনকার মধ্যবর্তী দ্বন্দ প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ৭৩’ এর পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে আবারও দ্বন্দ দেখা দিলে এ দ্বন্দ আর দূর হয়নি কখনো। নানা ইস্যুতে এ দুই পরিবারের দ্বন্দ নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকেও বারবার প্রভাবিত করছে। বর্তমানেও চলমান এ দুই পরিবারের দ্বন্দের একদিকে রয়েছেন মেয়র ডা. আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমান। দুইজন বারবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন।

এ দুইজনকে ঘিরেই চলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতি এমনটাই মনে করেন নেতাকর্মীরা। যার প্রমাণও পাওয়া যায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বশেষ কমিটিগুলোর দিকে তাকালে। ২০১৫ সালে মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয় যাতে ১ নম্বর সদস্য হিসাবে রাখা হয় শামীম ওসমানকে, এছাড়াও এ কমিটিতে শামীম ওসমান অনুসারী নেতাকর্মীদের আধিক্যও দেখা যায়। এরপর ২০১৭ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আধিক্য ছিলো মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অনুসারীদের, যেখানে খোদ আইভীকেও সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে আসীন করা হয়। এর পর জেলা আওয়ামীলীগের অধীনে ৫টি উপজেলার কমিটি গঠনের সময়েও এ দুই পরিবারের অনুসারীদের মাঝে অন্তর্দ্বন্দের সৃষ্টি হয় যা পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাই -সাধারণ সম্পাদক বাদল বনাম সিনিয়র সহ-সভাপতি আইভীর বলয়ে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। হাই-বাদলও মূলত শামীম ওসমান অনুসারী নেতাকর্মী হিসাবেই সর্বমহলে পরিচিত বলে জানায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সবশেষ গতকাল বুধবার (১১ নভেম্বর) দেওভোগের জিউস পুকুরের মালিকানাকে কেন্দ্র করে প্রেসক্লাবের সামনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে হিন্দু সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবীতে স্মারকলিপি দেন। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের এ সমাবেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি চন্দন শীল ও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা। এ দুজনই সাংসদ শামীম ওসমানের বন্ধু ও ঘনিষ্ঠজন হিসাবে সর্বমহলে পরিচিত।

ফলে এ দুই পরিবারের বাইরে গিয়ে আওয়ামী রাজনীতি করতে পারছেন না দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অনেকটা বাধ্য হয়েই এ দুই পরিবারের কোনো না কোনো বলয়ের সাথে মিশে রাজনীতি করতে হচ্ছে ত্যাগী অনেক নেতাকর্মীদের। অনেকে আবার কোনো বলয়ের রাজনীতি করতে চান না, তাই অনেকটা আড়ালে চলে যাচ্ছেন রাজনীতি থেকে।

এদিকে জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে অন্তঃকোন্দল। অনেকেই চাইছেন পরবর্তী জেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের পদ হাসিল করতে। বিলুপ্ত কমিটিটি গঠনের পরও ছিলো দ্বন্দ-কোন্দল। একটি পক্ষ মেনে নিতে পারে নি জেলা বিএনপির সদ্য বিদায়ী সেই কমিটিকে। পক্ষটি বরাবরই আলাদাভাবে দলীয় কার্যক্রম পালন করতো। এ পক্ষটির নেতাকর্মীদের দাবী ছিলো, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত না নিয়েই ঐ কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। এর আগের জেলা কমিটির সভাপতি এড. তৈমুর আলম খন্দকার ও তার বলয়ের অনেক নেতাকর্মীকেই রাখা হয়নি সদ্য বিদায়ী জেলা বিএনপির কমিটিতে। এতে জেলা বিএনপির একটি বড় অংশই ক্ষুব্ধ, হতাশ ছিলো। বর্তমানে সেই কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় নতুন করে আবার কোন্দলের শুরু হয়েছে জেলা কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ-প্রত্যাশীদের মাঝে।

জেলা বিএনপিতে এড. তৈমুর আলম খন্দকার, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, অধ্যাপক মামনু মাহমুদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর, আজহারুল ইসলাম মান্নান, মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া, নজরুল ইসলাম আজাদ অনুসারী নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। এছাড়া এদের অনেকেই জেলা বিএনপির আহবায়ক পদের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরণা দিচ্ছেন বলেও শোনা যায়।

অপরদিকে মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে নেতারা। সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের নেতৃত্বে থাকে একটি পক্ষ এবং এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আলাদা বলয় গড়ার লক্ষে পৃথক পৃথক কর্মসূচী পালন করেন। এছাড়া সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনেরও রয়েছে আলাদা বলয়। তার উপর বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করা হবে এমন ঘোষণার কারণেও বিভক্তি আরো বাড়তে পারে বলেও মনে করছে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। তাছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ মহানগর বিএনপির কমিটির কার্যক্রম আটকে আছে মামলার গেড়াকলে।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১২:৫৫)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ