১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ১২:৫০
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

রাজনীতির মাঠ ফের উত্তপ্ত আইভীকে নিয়ে

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে প্রত্যেক বছরই যেকোন ইস্যু নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম হয়। এবারও তার বিপরীত নয়। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তর মেরুতে হানা দিতে এবার পুকুর দখল নিয়ে খোঁচা দিচ্ছে দক্ষিন মেরু। বিগত বছরগুলোতে নাসিকের নির্বাচন ঘিরে নানান ইস্যু দাড় করিয়েছিল দক্ষিন মেরুর প্রভাবশালী নেতারা।

এইবারের নাসিকের নির্বাচন ঘিরে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমালোচিত করতে ইস্যু হিসেবে দাড় করিয়েছে শহরের দেওভোগের ঐতিহ্যবাহী জুস পুকুরকে নিয়ে। এ পুকুরের একটি অংশের মালিক নাসিকের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পূর্বসুরীরা। আর এ পুকুরকে দখল নিয়ে নতুন করে আলোচনা, বিক্ষোভ হয়েছে শহরে।

এ পুকুর দখল হয়ে আছে দাবী করে সেখানে দেবোত্তর সম্পত্তির একটি সাইনবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা। মেয়র আইভীর কাছে জেউস পুকুরের মালিকানা সম্পর্কিত নথি ও দলিল থাকলেও তা মানতে চাচ্ছেন না হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা। তাদের দাবী এ সম্পত্তি রাজা লক্ষী নারায়ণ আখড়ার সম্পত্তি।

গতকাল বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্যে পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদে আইভীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। ওই মানববন্ধনে মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল ও আত্মসাতের হীন চক্রান্তের অভিযোগ আনা হয়।

মানববন্ধনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, হুমকি-ধামকি দিয়ে লাভ নেই। যদি হত্যা করে আন্দোলন থামাতে চান, প্রথমে আমাকে হত্যা করেন। আমি মৃত্যু পর্যন্ত জিউস পুকুর নিয়ে কথা বলবো। তিনি বলেন, ধর্মের নামে ভন্ডামী এখানে চলবে না। কেউ কেউ নিজেকে কার্নিক দাবি করে মসজিদ-মন্দিরের জায়গা দখল করবেন আওয়ামী লীগ তা সহ্য করবে না। মেয়র আইভীর আত্মীয়-স্বজনদের জমি দখলের বিষয়টা আমি প্রধানমন্ত্রী’র কাছে তুলে ধরবো। যারা হিন্দু সম্পত্তি দখল করে, জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদের নমিনেশন দিবে না। আর কেউ যদি দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে, সেই দায়ও আওয়ামীলীগ নিবে না।

বে দেওভোগ এলাকার অনেকেই বলছেন, এ সম্পত্তি আইভীর নানার। জেউস পুকুরের মালিকানা সম্পর্কিত নথি ও দলিলও রয়েছে আইভীর কাছে। মূলত আইভীকে বিপদে ফেলতে এমন অহেতুক দাবী করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একবার পৌরসভায়, দুইবার সিটি কর্পোরেশনে মেয়র হয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ কারনে তার যেমন জনপ্রিয়তা রয়েছে তেমনি প্রতিপক্ষও তৈরী হয়েছে। প্রতিবারই দলের সমর্থন ও মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতায় পরতে হয়েছে তাকে। গত বারের ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে আইভীর প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে দাঁড়িয়েছিল বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তিনি নাসিক মেয়র প্রার্থী হতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত অসুস্থার কথা বলে পিছু নেন তিনি।

এর আগে ২০১১ সালে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শামীম ওসমানকে সমর্থন দেয়। দলের এ সমর্থনের বিরুদ্ধে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালিন আহবায়ক এসএম আকরাম, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, আব্দুল কাদির ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ আইভীকে নিয়ে মাঠে নামেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান, বিএনপির প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার ও নাগরিক সমাজের প্রার্থী আইভী সমানতালে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে থাকেন। সেইবার নির্বাচনে সিটি মেয়র হয়ে আইভী উন্নয়ন কাজে মনোযোগ দেন।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আইভীর গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে বেশ। তবে আইভী এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। এমনকি দলীয় মনোনয়নও তিনি চাইবেন না। যদি দল ও দলের প্রধান তাকে মনোনয়ন দেয় তবে তিনি নির্বাচন করবেন।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১২:৫০)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ