১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, দুপুর ১:১৩
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

কোন পথে বিএনপি

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

কঠিন সংকটে বিএনপি। সরকারের বিশেষ বিবেচনায় জামিনে মুক্ত থাকলেও সক্রিয় রাজনীতিতে নেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা করছেন দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বিভক্ত বেশ কয়েকটি গ্রুপে। তাই কর্মীরা মনে করছেন, রাজনীতির মাঠে বড় সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না দলটি। তবে তাদের দাবী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা ঐক্যবদ্ধ হলে পাল্টে যেতে পারে জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতির দৃশ্যপট।

জানা যায়, সরকারী দল ও পুলিশি চাপের সাথে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে দলের মধ্যে বিরাজ করছে অস্বস্তি। টানা তিন দফায় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি অনেক দিন থেকেই কোণঠাসা। অনেকে বলছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণেও ব্যর্থ দলটি। অবশ্য এ দুরবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কেন্দ্র থেকে নানামুখী তৎপরতা চালানোর পরামর্শ তাদের। এ পরিস্থিতিতে দলের এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। সংকট উত্তরণে কোন পথে যাবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা- এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমুল নেতাকর্মীদের মনে।

রাজনৈতিক বিশ্নেষক মহল মনে করেন, বর্তমানে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে এসেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। ঘুরে দাঁড়াতে দলটিকে আবার প্রতিষ্ঠাতার আদর্শে ফিরে যেতে হবে। সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও মেধাবী নেতাকর্মীদের খুঁজে নেতৃত্বের আসনে বসাতে হবে। দলমত নির্বিশেষে জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী ব্যক্তিদের দলে টেনে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শুধু নিজেদের সমর্থকদেরকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়দায়িত্ব দিয়ে সাফল্য অর্জন সম্ভন হবেনা বলেও মনে করেন তারা।

তারা আরও মনে করেন, শিগগির জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করতে হবে, মহানগর বিএনপির কমিটির মামলাজনিত যে ঝামেলা আছে তা নিস্পত্তি করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দদেরকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামারও চিন্তাভাবনা করতে হবে বলে মনে করেন তারা। তাদের মতে, বর্তমানে জেলা বিএনপির নেতৃত্বশূন্যতাসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মতবিরোধের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও চিন্তিত দলের নেতাকর্মীরা। সাংগঠনিকভাবে অনেকটা দুর্বল নারায়নগঞ্জ বিএনপিকে কীভাবে আবার শক্তিশালী করা যায়- তা নিয়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দদেরকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করার তাগিদ দেন তারা।

অপরদিকে, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ করে বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, এমনিতেই ১২ বছর ধরে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে বিএনপিকে ধ্বংস করতে নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। সকল স্তরের নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। তার উপর আবার স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অবস্থা এমন যেন, কেউ কারো চেহারা না দেখলেই ভালো হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় কোন পথে যাচ্ছে বিএনপির অবস্থা তা বলা মুশকিল বলে মনে করেন এ নেতারা।

তবে, দলের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা মনে করেন, সকল স্তরের নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলেও মনে করেন তারা।

তৃণমূল বিএনপির নেতারা বলছে, ব্যক্তিস্বার্থে নেতাদের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল। পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহ প্রবণতা। আন্দোলনের সুতিকাগার হিসাবে পরিচিতি এ জেলায় দলের সাংগঠনিক অবস্থাও তেমন ভালো নয়। ভালো নয় বলেই ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিপর্যস্ত হওয়ার পর একযুগেও কেন্দ্রীয় বিএনপির মতো করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিও নতুন করে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পাশাপাশি দীর্ঘ এ সময়ে কোনো ইস্যুতেই রাজপথে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন-কর্মসূচি দিতে পারেনি দলটির নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দরা।

এদিকে, বর্তমানে করোনার কারণে চার দেয়ালের ভেতর কর্মসূচি বন্দি রয়েছে বিগত পাঁচ মাস। অবশ্য এ পরিস্থিতিতে তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন যাবত সরব হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে, হতাহতদের খোঁজ নিচ্ছে এবং তাদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সর্বশেষ গত সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় বেশ কিছু নেতাকর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময়ে জেলা-মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শতশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। করোনা কারণে দীর্ঘ সময় রাজনীতির মাঠ থেকে দুরে থাকার পর সম্প্রতি এতো বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অনেকটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

তবে এর আগেও মাঝে মাঝে পৃথক পৃথকভাবে হলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা তাক লাগানো মিছিল মিটিং করে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিয়েছিলো। কিন্তু তারপর আবারও তারা নিরব ভুমিকায় চলে যেতে থাকে। এবারও কি বিএনপি পুনরায় নিস্ক্রীয় হয়ে পড়বে নাকি উজ্জীবিত থাকবে তা দেখার অপেক্ষায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ফলে কি হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ভবিষ্যৎ বা কোন পথে যাচ্ছে বিএনপি তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (দুপুর ১:১৩)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.