১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, বিকাল ৩:২৪
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

ঝিমিয়ে পড়ছে ছাত্র রাজনীতি

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

ছাত্রলীগ সবসময় মাঠে-ময়দানে, রাজপথে ছিলো এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। করোনা পরিস্থিতিতেও অন্য যে কোনো ছাত্রসংগঠনের তুলনায় ছাত্রলীগ অনেক সহায়তা দিয়েছে দারিদ্রদের মাঝে। এছাড়াও আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগনের সব যৌক্তিক আন্দোলনে সর্বদা পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো

নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা থেকে গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রধান ভূমিকা ছিল। ছাত্র রাজনীতির চর্চার অন্যতম প্লাটফর্ম হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। কেননা রাজনৈতিক দিক দিয়ে ঢাকার সবচেয়ে নিকটে নারায়ণগঞ্জের অবস্থান।

বসবাসযোগ্য একটি সুশৃঙ্খল নারায়ণগঞ্জ বিনির্মাণে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। অতীতের ছাত্র নেতাদের ত্যাগের মহিমা মিশে আছে এ নারায়ণগঞ্জে। তবে ছাত্র রাজনীতির গৌরবজ্বল ইতিহাসের স্বাক্ষী এ নারায়ণগঞ্জে করোনাসহ বেশ কিছু কারণে ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়ছে ছাত্র রাজনীতি।

কয়েক মাস ধরে চলমান রয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব। তাই ছাত্র সংগঠনগুলো সহ রাজনৈতিক দলগুলোর সকল সংগঠনের কার্যক্রম অনেকটা স্থগিত রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং পুলিশি হামলা-মামলার কারণে করোনা পরিস্থিতিতেও ছাত্রদলের কার্যক্রম তেমন একটা লক্ষ্য করা যায়নি। সবশেষ করোনা পরিস্থিতিতে কিছু নেতা নিজ উদ্যোগে অসহায়দের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করলেও অধিকাংশরা ছিলো ঘরের ভেতরে। এর আগে গত বছর মশিউর রহমান রনিকে সভাপতি ও সজীবকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের জেলা কমিটি গঠন হয়।

একইসময়ে শাহেদকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি গঠনের পর থেকে করোনা পুর্ববর্তী সময়ে হাতেগোনা ২০-২৫ জন ছাত্রনেতাদের নিয়ে দু/চারটি মিছিল করলেও অধিকাংশ সময়েই তারা নিস্ক্রিয় ভুমিকা পালন করে বলে তৃণমূল ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শুরেতেই ছাতরাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে আড়ালে চলে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জে ছাত্র শিবিরের কোন অস্তিত্ব নেই বলে জানা যায়। অথচ বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে অন্য যে কোন সংগঠনের তুলনায় শিবির অন্যতম শক্তিধর সংগঠন হিসাবে দেশে তান্ডব চালিয়েছিলো বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জে শিবিরের আধিপত্যের ইতি ঘটে।

এদিকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা সক্রিয় থাকলেও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক তৎপরতা নেই। স্বল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে তাদের কার্যক্রম।

এদিকে তিন বছর আগে আংশিকভাবে গঠন করা জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ পূর্ণতা পায় তার পরের বছরই। বর্তমান কমিটি দুটি পূর্ণতা পেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত খোলস ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে পারেনি কমিটির নেতৃবৃন্দরা এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে না পারার কারণ হিসাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ মহল মনে করে, বর্তমান জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের প্রায় সকল নেতাকর্মীই সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারী ও অনুগামী। এছাড়াও এই কমিটি দুটির নেতৃবৃন্দের ভাষ্যমতে, তাদের অন্যতম অভিভাবক হচ্ছেন সাংসদ পুত্র অয়ন ওসমান। এটিই ছিলো মুল কারণ।

কেননা যে সময়টাতে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি দুটি পূর্ণতা পায়, তখন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কারণে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলো সাংসদ শামীম ওসমান বলয়ের নেতাকর্মীরা। ফলে সে সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে তেমন একটা গর্জে উঠতে পারে নি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তার উপর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও অসহায়দের পাশে দাড়াতে খুব একটা দেখা যায় নি ছাত্রলীগের নেতাদের। কিছু কিছু নেতাকর্মী দরিদ্রদের সহায়তায় এগিয়ে গেলেও বৃহত একটি অংশই ছিলো হোম কোয়ারেন্টাইনে। ফলে রাজপথে ছাত্রলীগের কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। তারা মনে করে, ধীরগতির কারণে আওয়ামীলীগের অন্যতম শক্তিশালী এ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন অনেকটা নীরব ভুমিকায় আসীণ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে ছাত্র রাজনীতি ঝিমিয়ে পড়ায় সাধারণ ছাত্রসহ নারায়ণগঞ্জবাসী অনেক ক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্নেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্নেষক মহলের মতে, ‘ছাত্রসমাজকে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়া ও দেশসেবায় সরাসরি নিয়োজিত হওয়ার জন্য রাজনীতি চর্চার বিকল্প নেই। সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন একটি নির্দিষ্ট ফোরামের আওতায় ছাত্র রাজনীতি পরিচালিত হওয়া দরকার।’

ছাত্রদলের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার বিষয়ে এক ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার জন্য প্রশাসন ও সরকারের একমুখী নীতি দায়ী।’ তার উপর বর্তমানে চলছে করোনা প্রভাব।

ছাত্রলীগের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার কথা অস্বীকার করে ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন, ‘ছাত্রলীগ সবসময় মাঠে-ময়দানে, রাজপথে ছিলো এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। করোনা পরিস্থিতিতেও অন্য যে কোনো ছাত্রসংগঠনের তুলনায় ছাত্রলীগ অনেক সহায়তা দিয়েছে দারিদ্রদের মাঝে। এছাড়াও আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগনের সব যৌক্তিক আন্দোলনে সর্বদা পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (বিকাল ৩:২৪)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.