১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, দুপুর ১২:৪০
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

দুই পরিবারে বন্দি আ. লীগ! বিএনপিতে অন্তঃকোন্দল

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রভাবশালী দুই পরিবারের হাতে ‘বন্দি’ হয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ এমনটাই মনে করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরেই চলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। পাশাপাশি তাঁদের নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীরা দখল করে আছে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী। ক্ষমতাসীন দলটি পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় এবং এমপি ও মেয়রের মধ্যে বিরোধ ঘিরে সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে অন্তঃকোন্দলে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। বিশেষত জেলার সর্বশেষ কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় নতুন কমিটির নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব-বিভেদ ও হতাশা বিরাজ করছে। এছাড়া মহানগর বিএনপির কর্মকান্ড আটকে আছে মামলার বেড়াজালে। সবমিলিয় অন্তর্বিভেদ ও মামলার কারণে দলটির নেতাকর্মীরা মাঠেও সেভাবে তৎপরতা দেখাতে পারছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতিতে ওসমান পরিবার ও চুনকা পরিবারের দ্বন্দ বেশ পুরোনো। ১৯৭২ সালে শহর আওয়ামীলীগের কাউন্সিল নিয়ে শামীম ওসমানের বাবা একেএম শামসুজ্জোহা ও আইভীর বাবা চুনকার মধ্যবর্তী দ্বন্দ প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ৭৩’ এর পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে আবারও দ্বন্দ দেখা দিলে এ দ্বন্দ আর দূর হয়নি কখনো। নানা ইস্যুতে এ দুই পরিবারের দ্বন্দ নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকেও বারবার প্রভাবিত করছে। বর্তমানেও চলমান এ দুই পরিবারের দ্বন্দের একদিকে রয়েছেন মেয়র ডা. আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমান। দুইজন বারবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন।

এ দুইজনকে ঘিরেই চলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতি এমনটাই মনে করেন নেতাকর্মীরা। যার প্রমাণও পাওয়া যায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বশেষ কমিটিগুলোর দিকে তাকালে। ২০১৫ সালে মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয় যাতে ১ নম্বর সদস্য হিসাবে রাখা হয় শামীম ওসমানকে, এছাড়াও এ কমিটিতে শামীম ওসমান অনুসারী নেতাকর্মীদের আধিক্যও দেখা যায়। এরপর ২০১৭ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আধিক্য ছিলো মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অনুসারীদের, যেখানে খোদ আইভীকেও সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে আসীন করা হয়।
এর পর জেলা আওয়ামীলীগের অধীনে ৫টি উপজেলার কমিটি গঠনের সময়েও এ দুই পরিবারের অনুসারীদের মাঝে অন্তর্দ্বন্দের সৃষ্টি হয় যা পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাই -সাধারণ সম্পাদক বাদল বনাম সিনিয়র সহ-সভাপতি আইভীর বলয়ে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। হাই-বাদলও মূলত শামীম ওসমান অনুসারী নেতাকর্মী হিসাবেই সর্বমহলে পরিচিত বলে জানায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ফলে এ দুই পরিবারের বাইরে গিয়ে আওয়ামী রাজনীতি করতে পারছেন না দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অনেকটা বাধ্য হয়েই এ দুই পরিবারের কোনো না কোনো বলয়ের সাথে মিশে রাজনীতি করতে হচ্ছে ত্যাগী অনেক নেতাকর্মীদের। অনেকে আবার কোনো বলয়ের রাজনীতি করতে চান না, তাই অনেকটা আড়ালে চলে যাচ্ছেন রাজনীতি থেকে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের সিনিয়র এক নেতা বলেন, ‘দুই পরিবারের মাঝে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতি আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে সকলেরই জানান। একসময় আওয়ামী লীগ বলতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বোঝানো হতো। কিন্তু বর্তমানে এ দুই পরিবারের অনুসারীরাই আওয়ামীলীগার আর ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিপীড়িতরা এখন অনেকটা আওয়ামী বিমুখ হয়ে পড়ছে। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দিকে তাকালে হাতেগোনা কিছু নেতাকর্মী ছাড়া ত্যাগী ও বলয়বিহীন নেতাকর্মী খুঁজে পাওয়া দুস্কর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সবাই কোনো না কোনো বলয়ের সাথে জড়িত এবং কারো না কারো অনুসারী হিসাবেই পরিচিত।
অপরদিকে প্রবীণরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী থেকে অবসর না নেয়ায় বা তরুনদের জন্য জায়গা বা সুযোগ করে না দেয়ায় দলে ক্ষোভ-হতাশা কিছুটা বেড়েছে বলে জানা যায়। সংগঠন ঘিরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে তরুণ নেতৃত্ব। পাশাপাশি বেশ কিছুদিন যাবৎ অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন যুবলীগের জেলা ও মহানগরের সম্মেলন ও নতুন কমিটি না হওয়ায় জেলা ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে যুবলীগের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসা অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। হতাশা আছে তৃণমূলেও।

মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, দু-একজন প্রভাবশালী নেতার আজ্ঞাবহ হতে না পারায় অনেককেই মাঝে-মধ্যে চাপের মুখে থাকতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পরপর সম্মেলনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও দক্ষ নেতাদের নিয়ে কমিটি হওয়ার কথা। কিন্তু মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর আগে শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি এখনো। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভালো কাজে আগ্রহ থাকে না।

এদিকে জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু রয়েছে অন্তঃকোন্দল। সর্বশেষ কমিটি গঠনের পরও ছিলো দ্বন্দ-কোন্দল। একটি পক্ষ মেনে নিতে পারে নি জেলা বিএনপির সদ্য বিদায়ী সেই কমিটিকে। পক্ষটি বরাবরই আলাদাভাবে দলীয় কার্যক্রম পালন করতো। এ পক্ষটির নেতাকর্মীদের দাবী ছিলো, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত না নিয়েই ঐ কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। এর আগের জেলা কমিটির সভাপতি এড. তৈমুর আলম খন্দকার ও তার বলয়ের অনেক নেতাকর্মীকেই রাখা হয়নি সদ্য বিদায়ী জেলা বিএনপির কমিটিতে। এতে জেলা বিএনপির একটি বড় অংশই ক্ষুব্ধ, হতাশ ছিলো। বর্তমানে সেই কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় নতুন করে আবার কোন্দলের শুরু হয়েছে জেলা কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ-প্রত্যাশীদের মাঝে।

অপরদিকে মহানগর বিএনপির কমিটির কার্যক্রম আটকে আছে মামলার গেড়াকলে। তাছাড়াও কমিটি গঠনের পর থেকেই দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে নেতৃবৃন্দরা। সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের নেতৃত্বে থাকে একটি পক্ষ এবং এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আলাদা বলয় গড়ার লক্ষে পৃথক পৃথক কর্মসূচী পালন করেন।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (দুপুর ১২:৪০)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.