১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সকাল ১০:৫৪
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

নামেই সীমাবদ্ধ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং দুর্যোগে জনগণকে স্বেচ্ছায় সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হলেও কোন রকম সেবামূলক কার্যক্রমের অংশীদার হতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল। এক অর্থে নামেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সংগঠনটির যাবতীয় কার্যক্রম। অনেকটা নাম সর্বস্ব অঙ্গ-সংগঠন হওয়ায় এবং দীর্ঘ এক বছরেও কোনো ইউটিট কমিটি গঠন না হওয়ায়, অবহেলাও জুটছে নেতা-কর্মীদের কপালে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ০৬ জুন আবুল কাউসার আশাকে সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন রানাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিলো। এর তের মাস পর ২০১৯ সালের ০৮ আগষ্ট ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে স্বেচ্ছাসেবকদলের তৎকালীণ কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ১৩ মাস পরেও মহানগরের আওতাধীণ ৩টি থানা ও ২৭ টি ওয়ার্ড সহ কোনো ইউনিট কমিটি গঠন করতে পারে নি মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদল। দলীয় কর্মকান্ডে নেতৃবৃন্দের অবহেলা, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মাঝে সমন্বয়হীণতা, খোঁজ-খবর না নেয়াসহ একাধিক কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের কার্যকলাপ।

করোনা পরিস্থিতিতেও দলগত ভাবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদল তেমন কিছু করতে পারে নি বলে অভিমত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। তাদের মতে, সভাপতি-সাধারন সম্পাদক দুজন দু বলয়ের সাথে জড়িত থাকার কারণে করোনাকালীণ ভয়াবহ পরিস্থিতির সময়ও আমরা একসাথে অসহায় ও হতদরিদ্রদের জন্য কিছুই করতে পারি নি। শুধু করোনাকালীণ সময়েই নয়, কমিটি গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সমষ্টিগতভাবে দলীয় কোনো আন্দোলন কর্মসূচী পালন করা সম্ভব হয় নি বলেও জানা তারা।
আরও জানা যায়, বর্তমান কমিটির সভাপতি আশা এবং সাধারণ সম্পাদক রানা আলাদা আলাদা বলয়ের অনুসারী হওয়ায় এ কমিটি তেমনভাবে সফলতার মুখ দেখতে পারে নি। সাবেক এমপি আবুল কালাম বলয়ের অনুসারী হলেন আবুল কাউসার আশা। অপরদিকে, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুসারী হলেন সাখাওয়াত হোসেন রানা।

এই বিষয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা বলেন, স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে জনগনের সেবার কথা বলা হলেও মহানগর কমিটি গঠনের পর থেকে এক বছরের বেশী সময় পার হয়ে গেলেও কমিটি গঠন বা জনগনের পক্ষে দাবী আদায়ে তেমন কিছুই করা সম্ভব হয় নি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তেমন একটা দেখা যায় না মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলকে এমনটাই জানান তিনি। এভাবে তো একটা সংগঠন চলতে পারে না।

সংগঠনের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া প্রসঙ্গে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আরেক নেতা বলেন, মূল দল তথা বিএনপি থেকে আমাদের সংগঠনের জন্য নির্ধারিত কোনও আর্থিক বরাদ্দ নেই। অঙ্গ সংগঠন হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল স্বেচ্ছায় সেবা দেওয়া তো দূরের কথা, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে মূল দলের আন্দোলন-সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে খুব বেশি সমর্থ হচ্ছে না। তার উপর আবার মহানগর কমিটির শীর্ষ দুই নেতাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মাঝেও দ্বন্দ-বিরোধ লেগেই রয়েছে। ফলে সংগঠনটির মহানগর কমিটির কার্যক্রম অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে আশা করি অচিরেই মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল ঘুরে দাঁড়াবে এবং রাজনীতির পাশাপাশি জনগনের সেবা করতে পারবে। পাশাপাশি, শীঘ্রই জনগনের দাবী আদায়ে যথেষ্ট শক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগন ও মূল দলের আস্থা অর্জন করতে পারবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন এ নেতা।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মাঝে সমন্বয়হীণতার বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা বলেন, আসলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মাঝে সমন্বয়হীণতার বিষয়টি ঠিক নয়, আবার ঠিকও। যদিও রানা ভাইয়ের (সাধারণ সম্পাদক) সাথে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সমন্বয়হীণতা ছিলো না, তবে পার্টির সেক্রেটারী হিসাবে তিনি কিছুটা ইন-একটিভ (নিষ্ক্রীয়) ছিলো। তিনি ইন-একটিভ থাকাতে কেন্দ্র থেকে ৩ দিন আগে যুগ্ম সম্পাদক জিয়াকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করেছে।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (সকাল ১০:৫৪)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.