১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, দুপুর ২:১৪
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলে অবস্থা শোচনীয়!

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের রাজনৈতি অঙ্গনে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও ধীরে ধীরে তা কাটতে শুরু করেছে। সকল দলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হতে শুরু করেছে, সেই সাথে চাঙ্গা হচ্ছে মাঠের রাজনীতিও। তবে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নয়া নয়া রাজনৈতিক কৌশলের জাতাকলে বিএনপির অবস্থা শোচনীয়। কোনো দাবি নিয়ে যখনই রাজপতে নামার প্রস্তুতি নেবেন, কিংবা সরকারবিরোধী কোনো পদক্ষেপে যাবেন ঠিক তখনই নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলা পুনরুজ্জীবিত করে তাদের কোনঠাসা করা হচ্ছিল।

জানা যায়, বিএনপিকে নিস্ক্রিয় রাখার অন্যতম একটি কৌশল হচ্ছে, একের পর এক বেশ কিছু ইস্যুতে বিএনপিকে ধোয়াশায় ফেলে রাখা। সরকারের বিভিন্ন সুত্রমতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সাড়া দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অবস্থাও এখন অনেকটা নাজেহাল টাইপ। একটি বিষয় নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি শেষ করার আগেই আন্দোলনের আরেকটি বিষয় চলে আসছে বিএনপির কাছে। আর তাই বিএনপির নেতাকর্মীরা পড়ে যাচ্ছে দ্বিধা-দ্বন্দের মাঝে। ঘুরে দাড়াতে চাইলেও সরকারের কিছু নীতি ও কৌশলের কাছে বারবার হার মানছে বিএনপির নেতাকর্মীরা এমনটাই মন্তব্য বিএনপি ঘরানার কিছু রাজনৈতিক সিনিয়র ব্যক্তিবর্গের। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ বলয় তৈরিতে এবং নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে বলে মনে করেন তৃণমুলের নেতাকর্মীরা।

তবে রাজণৈতিক বিশ্লেষক মহলের এমন সব মন্তব্য মানতে নারাজ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত জাতীয় নির্বাচনে ভোটের কোন পরিবেশ ছিলো না বা জনগন ভোট দিতে পারে নি, বরং ভোটের আগের দিন রাতে আওয়ামীলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই ভোট দিয়ে রেখেছিলো এমন অভিযোগ করছে নির্বাচনের পর থেকেই।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, গত নাসিক নির্বাচনে হারার পরেও সারাদেশের তুলনায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অবস্থা ভাল ছিলো এবং বর্তমানেও আছে। তাদের মতে, বিএনপির মতো এতো বড় এবং জনপ্রিয় দলে সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা, পদ নিয়ে মন-মালিন্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তার মানে এই নয় যে, বিএনপির অবস্থা নাজেহাল বা অন্যকিছু। বিএনপিতে যারা আছেন তারা সবাই শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ। বর্তমানে করোনার কারণে এবং দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের কারণে ও কৌশলগত কারণে অনেকসময় সবাইকে একসাথে আন্দোলন কর্মসূচীতে দেখা না গেলেও সময়মতো বিএনপির সকল নেতাকর্মীরা ঠিকই ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামবে বলে মনে করেন তারা।

তবে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান তারা। যদিও সাংগঠনিকভাবে দলকে গোছানোর বিষয়টি অনেক আগে থেকেই চিন্তা-ভাবনা চলছিলো, সেই ভাবনা থেকেই শীঘ্রই জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে, মহানগর বিএনপির সীমানা ও মামলা সংক্রান্ত ঝামেলা নিস্পত্তি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা ও মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সকল সহযোগী সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে আগেই।

তাদের মতে, মূল দলের জেলা ও মহানগর কমিটি ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দল এবং দলীয় নেতাকর্মীরা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী। আর এই শক্তিশালী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাই এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের মতে, বিরোধী দলের রাজনীতি করতে যে সাহসী ভূমিকা রাখার কথা সেই সাহস নেই অধিকাংশ নেতাকর্মীদের। তারা ভয়কে জয় করতে পারেনি। এত বড় একটা বিরোধী দল আজকে তাদের অবস্থা বড়ই শোচনীয়। বিএনপি তার রাজনীতিকে বিভ্রান্তির চোরাবালিতে একদিকে যেমন ডুবিয়েছে, অন্যদিকে হটকারী আন্দোলনের পথে গিয়ে সরকার বিরোধী দমন নির্যাতনের মুখে পড়ে মামলার জালেই বন্দী ও সাংগঠনিক শক্তিই ক্ষয় করেনি, কার্যত রাজনীতির গতিপথ থেকেই বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, গত নির্বাচনে ভোটের যে দৃশ্য ঘটেছে সারা দেশে তা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। যার ফলে তারা আরো অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বিএনপি জামায়াতকে দূরে রেখে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল, সেখানে হোঁচট খেয়েছে বিএনপি।

খোঁদ নারায়নগঞ্জ বিএনপি‘র রাজনীতিতে সক্রিয় এমন এক নেতা জানান, দূর্গ হিসাবে খ্যাত নারায়নগঞ্জ জেলা ও নারায়নগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র বর্তমান অবস্থান সাধারন নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছে। তৃনমূল নেতাকর্মীদের দাবী- দলের এই দুঃসময়ে নারায়নগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহ এর নিস্ক্রীয়তা থেকে উত্তরনে যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে। সকল ভয়কে জয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের চাকাকে আরো গতি দিতে হবে।

বিএনপি‘র মত এতো বড় একটা দলের “ওয়ান ম্যান শো” নেতা তৈরী করে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের মাঝে কোন্দল তৈরী করা চলবে না। রাজানৈতিক কুট কৌশল দলের তৃনমূল থেকে শুরু করে নারায়নগঞ্জ জেলা ও মহানগর পর্যায়ে একের পর এক বিভেদ সৃষ্টি করছে।

বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার, সদ্য বিলুপ্ত জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম, সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন, আড়াইহাজারের আতাউর রহমান আঙ্গুর, রূপগঞ্জের মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া, সোনারগাঁয়ের আজাহারুল ইসলাম মান্নান, অধ্যাপক রেজাউল করিম সহ সকলের উচিত দলকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, কিভাবে নতুন সদস্য নেওয়া যায় দলের জন্য সেই দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে মনে করেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই আজ নিজ নিজ বলয় তৈরিতে এবং নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে বলে মনে করেন তৃণমুলের এ নেতাকর্মীরা।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (দুপুর ২:১৪)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.