১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ২:৪০
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

বিএনপির দু:সময়ে সাহসী সৈনিকের ভুমিকায়

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

দীর্ঘ এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা, সরকারী দলের নানা কৌশলে পরাস্ত হওয়া এবং পুলিশের দায়ের করা বিভিন্ন মামলার কারণে অনেকটা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। তার উপর মূল দল থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি সহযোগী ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিবাদমান অন্তর্দন্দ্ব ও কোন্দল দলকে আরো পিছনে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। ফলে ব্যাহত হচ্ছে দলীয় কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রাম সবকিছুই।

তারপরও না.গঞ্জ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কিছু নেতা দু:সময়ের কান্ডারী হয়ে ঠায় দাড়িয়ে আছেন নেতাকর্মীদের পাশে এমনটাই মনে করে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, এসব নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম টিটু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম।

নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপি সরকারের সময়ের অনেক বাঘা বাঘা নেতারা বর্তমানের এ কঠিন পরিস্থিতি নিজেদের বাচাঁতে আড়ালে আবডালে থাকছেন। কেউবা আবার সরকারী দলের সাথে আতাত করে চলছেন, অনেকে আবার ঘরের কোণায় কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে দু-চারটা প্রোগ্রাম করে নিজেদের পিঠ বাচাঁনোর চেষ্টা করছেন। ঠিক তখনই অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, শহীদুল ইসলাম টিটু ও আনোয়ার সাদাত সায়েমসহ গুটি কয়েকজন নেতা সময়ের সাহসী সৈনিক হয়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং বর্তমানেও রয়েছেন।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির অন্যতম কান্ডারী হচ্ছেন অধ্যাপক মামনু মাহমুদ। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রায় সকল আন্দোলন সংগ্রামে জেলা বিএনপিকে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। নেতাকর্মীদের নিয়ে সর্বদা রাজপথে থাকতে গিয়ে অনেক মামলায় আসামী হয়েছেন। এছাড়া গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন বেশ কয়েকবার। তারপরও থামানো যায় নি তাকে, চলতি বছরের ২১ শে ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও সকল আন্দোলন কর্মসূচীতে এখনো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বলে জানা যায়।

অল্প সময়ের মধ্যেই আইনাঙ্গনের গন্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতির পদ পাওয়া এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এখন নগর বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের কাছে ভরসার অন্যতম আশ্রয়স্থল বলে জানায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, মহানগর বিএনপির রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন সাখাওয়াতই। কেননা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম বের হন না ঘর থেকে, আর সেক্রেটারী এটিএম কামালও দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশের মাটিতে। এই যখন দুই প্রধানের অবস্থা ঠিক তখনই মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠগুলোর হাল শক্ত হাতে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। দীর্ঘ সময় ধরে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, আন্দোলন সংগ্রাম, দু:স্থ ও অসহায় মানুষের সেবা ও ত্রাণ বিতরণ, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ড, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। তাই মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে দু:সময়ের কান্ডারী হিসাবেই পরিচিত এড. সাখাওয়াত।

এদিকে, যুবদলের নেতাকর্মীদের মতে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে হলেও যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন শহীদুল ইসলাম টিটু। এছাড়া বিভিন্ন কমিটির নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ ও কোন্দল এবং বিভক্তি শুরু হলেও জেলা যুবদলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছেন বিএনপির লড়াকু এ সৈনিক। শুধু ঐক্যবদ্ধই নয়, সরকার বিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই সাধারণ সম্পাদকসহ সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে থেকে লড়াই করেছেন টিটু এমনটাই জানায় যুবদলের নেতাকর্মীরা।

স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীদের মতে, ২০১৮ সালের ২৬শে জুন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটির সভাপতি এবং ২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান আনোয়ার সাদাত সায়েম। তারপর থেকে শুধু নারায়ণঞ্জেই নয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যে কোনো প্রান্তে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করতে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতৃবৃন্দদেরকে সাথে নিয়ে সামনে থেকে সর্বদা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি এমনটাই জানান স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীরা। বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো যখন দিশেহারা ঠিক তখনই জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
রাজপথে থাকার বিষয়ে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নিজেকে রাজপথের কান্ডারী মনে করি না। দলের প্রতি বিস্বস্ততা থেকে এবং দলের প্রয়োজনে কাজ করার চেষ্টা করি। আগামীতেও দলের সকল সুখে-দু:খে আছি এবং রাজপথে থাকার চেষ্টা করবো।

জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, দল আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে আমরা তা পালনের চেষ্টা করছি এবং এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় অনেকভাবে আমরা নির্যাতিত হচ্ছি। তারপরও কিছু করার নেই, দলের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পদ-পদবী নিয়ে যারা ঘরে বসে আছে আমরা তাদেরকে আহবান করি, তারা যেন শীঘ্রই ঘর থেকে বের হয়ে আসুক। কারণ আজকের যে পরিস্থিতি, তাতে ঘরে বসে থেকে কোনো লাভ নেই। দুদিন আগে আর পেছনে, এ সরকারের সময়ে কেউ শান্তিতে থাকতে পারবেনা। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারের বিরুদ্ধে কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করতে হবে এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, তাহলেই এ দেশে শান্তি ফিরে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম বলেন, দল এবং কেন্দ্র যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা সবসময় প্রস্তুত দলীয় সকল আন্দোলন সংগ্রাম সফল করার লক্ষ্যে। দল যখনই ডাক দিবে তখনই অতন্ত্র প্রহরীর মতো আমরা জেগে থাকবো। এছাড়া আগামীতে কেন্দ্র থেকে যদি সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেয়া হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীরা সেই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রাইম/এস আই এস

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ২:৪০)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.