১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৭:০০
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

শুদ্ধ রাজনীতির পথে শামীম ওসমান

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

মোঃ সাইফুল ইসলাম সায়েম

দেশের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তিদের একজন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এ নেতা একসময় দাপট, দাম্ভিকতা ও ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করলেও বর্তমানে তিনি ধৈর্য্য, সহানুভুতি ও সম্প্রীতির রাজনীতিতে ফিরে আসছেন বলে মনে করে নারায়ণগঞ্জবাসী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহনশীল রাজনীতি ও করোনাকালীণ পরিস্থিতিতে কোটি টাকার অনুদান, করোনায় আক্রান্ত বিরোধীপক্ষের নেতাদের খোঁজ-খবর নেয়া, জনগনের যে কোনো সমস্যা নিজে উপস্থিত থেকে বা তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সমাধানের ব্যবস্থা করে দেয়া, এসবই যেন সাংসদের ইতিবাচক রাজনীতির বহি:প্রকাশ। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দি বা বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে এখন আর তীর্যকপূর্ণ কোনো বক্তব্যও শোনা যায় না তার মুখে। এখন তিনি বিনয়ী। সর্বোপরি পজিটিভ রাজনীতির দিকে এগোচ্ছেন প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান অভিমত বিশ্লেষক মহল ও নারায়ণগঞ্জবাসীর।

জানা যায়, কলেজ জীবন থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন শামীম ওসমান। ৭৫ এ স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই সময়ের তরুণ শামীম ওসমান তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাসির দাবী জানিয়ে আন্দোলন করছিলেন, আর সেই সময়ে খানপুরস্থ বিবি মরিয়ম স্কুলের সামনে কি নির্মম নির্যাতন তাকে সহ্য করতে হয়েছিল। ৭৮ এ জিয়াউর রহমানের গাড়িবহর থামানো, তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদে থেকে একসময় ঢাকার রাজপথও কাপিয়েছেন সাহসী এ নেতা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হয়েছেন, ৯৬ এর নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখে খালেদা জিয়ার লং মার্চ আটকে দিয়ে এবং জামাত শিবিরের বেশ কিছু নেতাকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন সাংসদ শামীম ওসমান। এসবের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী তথা নিজ দলীয় ও বিরোধী দলীয় শক্তিকে তার রাজনৈতিক শক্তি ও ক্ষমতার দাপট দেখাতে সক্ষম হন। ফলে দেশব্যাপী আলোচিত হয়ে পড়েন ওসমান পরিবারের এ সন্তান।

অপরদিকে, আক্রমণের শিকার হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেচেঁ এসেছেন একাধিকবার। আহত হয়েছেন অসংখ্য বার। ২০০১ এর ১৬ই জুন চাষাড়ায় আততায়ীদের ঘাতক বোমা কেড়ে নিয়েছে ২০ জন সহযোদ্ধা-সাথীর প্রাণ, আহত হন তিনি নিজেও। পরে রাজনৈতিক কারণে তিনি ভারত এবং কানাডায় আত্ম-গোপনে চলে গিয়েছিলেন। প্রায় আট বছর পর, ২০০৯ সালের এপ্রিলে তিনি নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন, যখন বাংলাদেশ আওয়মী লীগ দল ক্ষমতায় ফিরেছিল। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নিবাচনে আবারো বিজয়ী হন। পরবর্তিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিপুল ভোটে টানা দ্বিতীয় বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন। শামীম ওসমান সপ্তম, দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য। তবে সংসদ সদস্য ছাড়াও বিশাল কর্মীবাহিনী থাকার কারণে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে উঠেছে। তার কারণেই বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছিল জামাত-শিবিরের ক্যাডাররা। ঐ সময় শামীম ওসমানের নির্দেশে তার কর্মীরা রাজপথে থেকে শিবিরের নাশকতা ঠেকিয়েছিলেন।

জেলার সাধারণ মানুষদের মতে, নারায়ণগঞ্জবাসীর আন্দোলন, সংগ্রাম, দুর্যোগ, দুর্দশা, হাসিকান্না, সুখ-দুঃখ বেদনা সবকিছুর সাথেই যেন মিশে আছে একটি নাম- একেএম শামীম ওসমান। তার অনস্বীকার্য অবদানের কারণেই নারায়ণঞ্জের জনগন তাকে সিংহ পুরুষ নামে ডাকতে ভালবাসেন বলেও জানান তারা। জনসাধারণের কাছে তিনি ভরসার প্রতীক হিসাবেই পরিচিত। শামীম ওসমান শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর গর্ব ও অহংকার। তিনি জয় করেছেন নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি মানুষের হৃদয় এমনটাই মনে করেন জেলাবাসী।

তবে বর্তমানে সময় পাল্টেছে, পাল্টেছে রাজনীতির ধরন, পাল্টেছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও। এখন আর আগের মতো হুংকার, গর্জন বা তীর্যকপূর্ণ বক্তব্য নয় বরং বিনয়ী, সৌহাদ্যপূর্ণ আচরণ, ধৈর্য্য ও সহানুভুতির মাধ্যমে এখন তিনি মানুষের মন জয় করে চলেছেন বলে অভিমত দলীয় নেতাকর্মীদের।

তাদের মতে, একসময় বিশাল গাড়িবহর ও কর্মীবাহিনী নিয়ে চলাফেরা করলেও বর্তমানে তিনি একাই ছুটে যান জনগনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে। জনগনের মনের ভাষা বুঝে জনগনের পাশে দাড়ান তিনি। যখন যেমন প্রয়োজন তখন তেমনই আচরণ করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই, আর তাই করছেন এ সাংসদ। যার ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার ভরসা খুঁজে পান শামীম ওসমানের উপর এমনটাই মনে করেন তারা।

শামীম অনুসারীদের মতে, পাহাড় সমান কৃতিত্বের অধিকারী সাহসী ও বিনয়ী এই পুরুষের নাম নারায়ণগঞ্জবাসী মনে রাখবে চিরদিন। অন্তত নারায়ণগঞ্জ যতদিন বেঁচে থাকবে, যতদিন শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা নদী বহমান থাকবে ততদিন নারায়ণগঞ্জের আকাশে, বাতাসে বইতে থাকবে শামীম ওসমানের নাম।

বিশ্লেষক মহলের মতে, সাংসদ শামীম ওসমান হয়তো উপলব্ধি করতে পেরেছেন, রাজনীতির অতি বাস্তব দিকটা হলো ’নান্দনিকতার বা সৌন্দর্য্যের রাজনীতি’। সহনশীলতা, ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, একাগ্রতা, নির্লোভ এই শব্দগুলি রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর বুঝতে পেরেছেন বলেই আগে যেখানে শামীম ওসমান যে কোন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে তাড়াহুড়ো করতেন এবং পেশী শক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকে ঝুঁকতেন, সেখানে বর্তমানে তিনি তার সহনশীল আচরণ দিয়ে মানুষের মন জয় করে সামনে এগিয়ে চলেছেন। শামীম ওসমানের সহনশীল এ আচরণ আগামী নির্বাচনে ভোটের রাজনীতিতে তাকে জয়ী হতে বড় ধরনের ভুমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তারা।

উল্লেখ, ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের সন্তান একেএম সামসুজ্জোহার কনিষ্ঠ ছেলে তিনি। আন্দোলন সংগ্রাম আর রাজনৈতিক চর্চা সেই ছোট্ট বেলা থেকে। স্কুল জীবন থেকে বুঝে গেছেন সে শুধু তার নয়! তার জন্মই হয়েছে এই দেশ, এই জাতির জন্য। নারায়ণগঞ্জের মাটি ও মানুষ তার অঙ্গে-অন্তরে মিশে একাকার।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (সন্ধ্যা ৭:০০)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.