১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সকাল ১১:৩৭
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

স্লাব ভেঙ্গে সড়কে গর্ত, দুর্ভোগ চরমে

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

নগরীর দেওভোগ পাক্কা রোড ও জল্লারপাড় এলাকায় ড্রেনের স্লাব ভেঙ্গে সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই সড়কগুলো দিয়ে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া রাতের বেলা সেখানে ছোট বড় যানবাহনের চাকা ও পথচারীরা পড়ে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলো জল্লারপাড় এলাকার সড়কটি। সড়কটির জল্লারপাড় ব্রীজের পরই ড্রেনের স্লাব ভেঙ্গে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ স্থান দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় শত শত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক, পিকআপ ও প্রাইভেটকার সহ অসংখ্য যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু স্লাব না থাকায় সৃষ্ট গর্তে প্রায়ই রিকশা-অটোরিক্সা-ইজিবাইকের চাকা পড়ে গিয়ে যাচ্ছে নানা দুর্ঘটনা ঘটছে।
জল্লারপাড় এলাকায় সড়কের মধ্যে সৃষ্ট বড় গর্তের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও গর্তের সামনে সড়কের পাশের দোকানদাররা জানিয়েছেন, প্রায় ৬/৭ মাস ধরে সড়কের মাঝখানের ড্রেনের স্লাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সেখানে ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও কাপড়ের নিশান দিয়ে গর্তটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করে থাকেন। দিনের বেলা সেই নিশান দেখে যানবাহনগুলো সড়কের এক পাশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনা ঘটে মূলত রাতে। রাতের বেলা দোকানপাট বন্ধ থাকে এবং আশে পাশে কোনো ঘর-বাড়ি না থাকায় ও আলো কম থাকায় গর্তের মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের চাকা পড়ে গিয়ে বেশ কিছু দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

তারা আক্ষেপ করে আরও জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষই কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। শীঘ্রই যাতে ড্রেনের এ অংশের স্লাবটি পুন:নির্মাণ করে জনভোগান্তির লাঘব করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানান তারা।
এদিকে, দেওভোগ পাক্কারোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নগরীর আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলো দেওভোগ পাক্কারোড এলাকার গার্মেন্টস গলির সড়কটি। দেওভোগ পাক্কারোডসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ ও যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এ সড়কটিরও ড্রেনের ওপর নির্মিত স্লাব ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এ সড়কের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ড্রেনের যতগুলো স্লাব রয়েছে সবগুলো স্লাবই রাস্তার তুলনায় নীচু। স্লাবগুলো রাস্তার সমান্তরালের নির্মাণ না করার কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গেলে রিক্সাসহ অন্য সকল যানবাহনের প্যাসেঞ্জার ও চালককে আছাড় খেতে হয়।

এলাকাবাসী জানায়, মাসখানেক যাবৎ সড়কটির ড্রেনের স্লাব ভেঙ্গে ঝুকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত সেই স্লাব বিহীন উন্মুক্ত ড্রেনের মধ্যে পড়ে আহত হচ্ছেন পথচারীরা, বিকল হচ্ছে যানবাহন, তাছাড়া একটি রিক্সা ঢুকলে আরেকটি রিক্সা ঢোকা বা বাহির হওয়ার সুযোগ নেই, ফলে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা নিজস্ব উদ্যোগে গর্তের মধ্যে বাশের উপর লাল কাপড় ঝুলিয়ে সতর্ক সংকেত দিয়ে রেখেছি। দিনের বেলা বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও রাতের বেলা প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানান তারা।

জল্লারপাড় এলাকার ভাঙ্গা স্লাবের কারণে সৃষ্ট গর্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু বলেন, যে স্থানটিতে স্লাব ভাঙ্গা সেটা আমার এলাকা (১৭ নং ওয়ার্ড) না। এটি ১৬ নং ওয়ার্ডে পড়েছে। তারপরও জনগনের সুবিধার্থে আমি সিটি কর্পোরেশনকে বিষয়টি সম্পর্কে জানাবো। তারপরও যদি কাজ না হয়, তাহলে আমি নিজ উদ্যোগে স্লাবটি নির্মাণ করে দিবো।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর বিভা হাসানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (সকাল ১১:৩৭)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.