১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, সকাল ১১:৪১
বিজ্ঞাপনের জন্য ই-মেইল করুনঃ ads@primenarayanganj.com

সবজি কুড়িয়ে ৫সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন বিধবা রোকসানা

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রতিনিধি, সোনারগাঁ:

জীবন-জীবিকার তাগিতে বিলঝিল থেকে কলমি লতা, কচু শাক, শাপলা, সালুকসহ প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকার সবজি কুড়িয়ে ঢাকার বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি এলাকার রোকসানা বেগম নামের এক বিধবা নারী। গত ছয় মাস পূর্বে স্ত্রী রোকসানাকে গর্ববতী অবস্থায় রেখে স্বামী মোয়াজ্জেম হোসেন অসুস্থ্য হয়ে মারা যান।

বর্তমানে রাকিব হোসেন (১৩) শাওন মিয়া (১০) সানজিদা আক্তার (৮) ও নুসরাত জাহান (১০মাস বয়সি) শিশু সন্তানসহ ৫ জনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম রোকসানা বেগম। অসুস্থ্যতার সময় চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে নিজেদের একমাত্র মাথা গোজার ঠাই ২ শতাংশ বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন রোকসানার স্বামী মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেই। এখন মাথা গোজার ঠাই বলতে কিছুই নেই রোকসানা বেগমের। সে এখন দড়িকান্দি এলাকার নুরা বেপারীর বাড়িতে  আশ্রিতা হয়ে ৪ সন্তান নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে কোন রকম জীবন কাটাচ্ছেন।

সন্তানদের জন্য দু-বেলা দুই মুঠো ভাত জোটাতে কোন উপায় অন্ত না পেয়ে বাধ্য হয়েই বিল থেকে কুড়ানো সবজি বিক্রিতে জীবন ধারন করে আসছেন রোকসানা বেগম। কিন্তু নিয়তির নির্মমতা ও দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসেও বাস্তবতার এই কঠিন বোঝা কাঁধে নিয়ে চলছে রোকসানার সংগ্রামী জীবন। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোধ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান উপেক্ষা করে বিলঝিল থেকে নানা রকম সবজি কুড়িয়ে সন্ধারাতে রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুল বাজারে দুই, তিনশত টাকা বিক্রয় করেই তিনি ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করাতে ও ১০ মাস বয়সি শিশুর দুধ কিনতে এবং পরিবারে দুবেলা দুই মুঠো ভাত জোটাতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন । তার আশা ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মত মানুষ করবে। ছেলে মেয়েরা ভালো চাকুরী করবে এবং দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবে।

সেই আশা বুকে ধারন করে প্রতিনিয়ত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছুটছেন সবজির ঝুঁড়ি কাঁদে নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে রোকসানা বেগম বলেন, প্রতিদিন ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে বিলে সবজি কুড়াতে আমার বড় মেয়ে সানজিদাকে নিয়ে আসি ছোট মেয়ে নুসরাতকে রাখার জন্য। ছোট্ট শিশু নুসরাতকে ঠিকমত দুধ কিনে খাওয়াতে পারিনা সেই জন্য অতিরিক্ত ক্ষুধার যন্ত্রনায় দিনের বেশির ভাগ সময় কান্নায় ছটফট করে। আমি মা হয়েও বড় অসহায়, শিশু সন্তানের মুখে ঠিকমত খাবার দিতে পারিনা তখন দুঃখ্য যন্ত্রনায় নিজেই বিলাপ করে কাঁদি। তাছাড়া সারাদিন শাক সবজি কুড়িয়ে আবার বাজারে বিক্রি করে বাড়িতে ফিরে আসার পর আমার দুই পা যেন অবস হয়ে আসে।

কিন্তু কি করব আল্লাহ ছাড়া যেন আমাদের দেখার আর কেউ নাই। দেশে করোনা শুরু হওয়ার পর জিন্নাহ চেয়ারম্যান আমার পরিবারের জন্য একবার দশ কেজি চাউল দিয়েছিল। তার পর থেকে কারও কাছ থেকে আর কোন সাহায্য পাই নাই। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পাতা অথবা কোন অসৎ কাজ না করে, কষ্ট করে হলেও ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে চাই, এইটুকুই আমার একমাত্র আশা। যতদিন শরীরে শক্তি আছে, ছেলে মেয়েদের মানুষ না করা পর্যন্ত আমি আমার সংগ্রামী জীবনের যুদ্ধ চালিয়ে যাবো।

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (সকাল ১১:৪১)
  • ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
  • ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.